বঢোদরা: তাঁর খেলা শেষ ১০ বলে পাঁচটি ছয় ও একটি চার মেরেছিলেন। নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে এগোতে থাকা দলের জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পারলেন
না। দল হারলই। কিন্তু স্মৃতির পাতায় চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, সোমবার, ২৬ জানুয়ারি এমনই এক ইনিংস খেললেন রিচা ঘোষ (Richa Ghosh)। ম্যাচ শেষে দলের সতীর্থ, সমর্থকদের বাহবাও কুড়িয়ে নিলেন ভারতীয় তারকা কিপার-ব্যাটার।
এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জন্য মরণ-বাঁচন ম্যাচ ছিল। ডব্লুপিএলের (WPL 2026) প্লে-অফের দৌড়ে বজায় থাকতে হলে তাদের এই ম্যাচ জিততেই হত। সেইমতো শুরুটা অবশ্য করতে পারেনি মুম্বই। তবে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগতে থাকা পল্টনদের হয়ে গোটা মরশুম জুড়ে অনবদ্য ফর্মে ছিলেন ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (Nat Sciver-Brunt)। তিনিই সোমবার একেবারে ইতিহাস গড়ে ফেললেন। অতীতে স্মৃতি মান্ধানার মতো বেশ কয়েকজন খুব কাছাকাছি পৌঁছছিলেন। তবে শতরানের গণ্ডি পার করতে পারেননি কেউ। সিভার-ব্রান্ট পারলেন। আর ইংল্যান্ড অধিনায়কের এই ইনিংসে ভর করেই জয়ের ভিত গড়ল মুম্বই।
মাত্র ১৬ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর সিভার-ব্রান্ট ও হেইলি ম্যাথিউজ় মুম্বই ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। সিভার-ব্রান্ট আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং করলেও, হেইলির শুরুটা খানিকটা মন্থরই হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে তিনিও ব্যাট চালান। দুইজনেই অর্ধশতরান হাঁকান। সিভার-ব্রান্টের হাফসেঞ্চুরি আসে ৩২ বলে আর ১৪তম ওভারে অর্ধশতরান পূরণ করেন হেইলি। লরান বেল হেইলিকে ৫৬ রানে ফেরালেও সিভার-ব্রান্ট থামেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় অধিনায়ক আউট হওয়ার পর সিভার-ব্রান্টকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে নামেন ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তিনি এদিন ২০ রানের বেশি করতে পারেননি।
তবে সিভার-ব্রান্ট মাত্র ৫৭ বলে ডব্লুপিএল ইতিহাসের প্রথম শতরান পূরণ করে ফেলেন। চার উইকেটে ১৯৯ রান তুলে ইনিংস শেষ করে মুম্বই। জবাবে আরসিবির শুরুটাই নড়বড়ে হয়। অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা মাত্র ছয় রানে সাজঘরে ফিরে যান। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই আধা আরসিবি দল আউট হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মতান্তরে বর্তমান বিশ্বের দুই সেরা ফিনিশার রিচা এবং নাদিন ডি ক্লার্কের কাঁধে দায়িত্ব এসে পড়ে। নাদিন শুরুটা ভাল করেও ২৮ রানে সাজঘরে ফেরেন।
১২৯ রানে আট উইকেট হারিয়ে যখন আরসিবি নিশ্চিত পরাজয়ের দিকে অগ্রসর, তখনও রিচা হাল ছাড়েননি। ৩৯ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন তিনি। ১৯তম ওভারের শেষ বলে শ্রেয়াঙ্কা পাতিল দুইটি চার মেরে আরসিবির জয়ের আশা বজায় রাখেন। শেষ ওভারে রিচাও তিনটি বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠান। তবে চ্যালেঞ্জটা সবসময়ই কঠিন ছিল। তিনি দুই বল মারতে পারেননি। শেষমেশ ইনিংসের শেষ বলে রিচার ৯০ রানের ইনিংস থামে। ১৫ রানে পরাজিত হয় আরসিবি। এই হারে আরসিবির খুব সমস্যা না হলেও, মুম্বই কিন্তু পয়েন্ট তালিকায় উপরে উঠে এল।










