কলকাতা: বাংলার ফুটবলের পরিচিত মুখ তিনি। দুই প্রধানের বছরের পর বছর ময়দান কাঁপিয়েছেন। সেই মেহতাব হোসেনকেই এবার SIR-র (West Bengal SIR) শুনানিতে ডাকা হল।
শুনানিতে ডাক পেয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ, বিরক্ত ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার।
২০০২ সালের তালিকায় মেহতাবের নাম ছিল তারপরেও তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। শুনানিতে ডাক পাওয়া নিয়ে মেহতাব বলেন, 'ময়দানে ২৫ বছর কেটেছে। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান মিলিয়ে মোট ১৭ থেকে ১৮ বছর খেলেছি। তারপর তো জাতীয় দলে ১০ বছর আছেই। তারপরেও যদি আমাদেরকে ডাকা হয়! শুধু আমি নই, বহু বিশ্ববিখ্যাত লোককেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। এগুলি খালি হয়রানি করা, বিব্রত করা, তাছাড়া আর কিছু নয়। এর আগে তো আধার কার্ডের সময়ও লাইনে দাঁড় করালাম। শুধু আমি তো একা নয়, প্রতিটি বাঙালি এর জন্য বিরক্ত হচ্ছেন।'
গতকালই হাতে নোটিস পেয়েছেন মেহতাব। রবিবার মল্লিকপুরের আব্দুস শকুর হাইস্কুলের শুনানিকেন্দ্রে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কাজ থাকায় সেইদিন তিনি যেতে পারবেন না, সোমবার শুনানিকেন্দ্রে যাবেন তিনি। এই ঘটনায় মেহতাব নিজে বেশ খানিকটা হতবাকই বটে। ১লা ফেব্রুয়ারি মল্লিকপুরে মেহতাবকে শুনানির জন্য যেতে হবে। তিনি আপাতত নিউ টাউনে থাকেন। তবে মেহতাবের আদি বাড়ি কিন্তু মল্লিকপুরেই। তিনি এখনও সেখানেরই ভোটার। তাই শুনানিতেও তাঁকে সেখানেই ডেকে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু কেন ডাক পেলেন মেহতাব? সেই নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার নিজেই খোলসা করে সবটা জানান। মেহতাব হোসেন জানান নামের গড়মিলের জেরেই তিনি শুনানিতে ডাক পেয়েছেন। এর আগে তাঁর মাকেও শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল বলে জানান মেহতাব। এই বিষয়ে প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'ওরা শুধু বাঙালিদের বিব্রত করবে। এসআইআরের পুরো প্রক্রিয়াটাই ভোট কাটার একটা চেষ্টা। বিশিষ্ট বাঙালিদের ডেকে, অপমান করে, গোটা প্রক্রিয়াটা ছাড়খাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটা ওদের বিরুদ্ধেই যাবে।'
পাল্টা বিজেপির সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দাবি, 'পদ্মশ্রী স্বপন দাশগুপ্তও ডাক পেয়েছেন। মিল না থাকলে যে কেউ ডাক পেতে পারেন। মিল না থাকলে আমিও ডাক পেতে পারি। এঁরা তো ভোট দেন না কি দেন না? ভোট দিতে গেলে তো তাঁদের সেখানে যেতে হয়।'










