নিউ জার্সি: বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর যখন আর্জেন্তিনায় দলের রানার আপ হওয়াকে উদযাপন করতে সেলিব্রেশনের পরিকল্পনা চলছে, তখন বড় সিদ্ধান্ত নিলেন লিওনেল মেসি
(Lionel Messi)। তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে দলের সঙ্গে আর্জেন্তিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে যাচ্ছেন না। পরিবর্তে তিনি উড়ে যাচ্ছেন মায়ামিতে। সেখানে তিনি ইন্টার মায়ামি দলের শিবিরে যোগ দেবেন। পরের সপ্তাহেই ম্যাচ রয়েছে ইন্টার মায়ামির। মেসির সঙ্গেই মায়ামি উড়ে যাচ্ছেন রদ্রিগো দে পল। তিনিও খেলেন ইন্টার মায়ামিতে।
তবে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া ইস্তক যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হল মেসিকে কি ফের জাতীয় দেল দেখা যাবে? নাকি আন্তর্জাতিক ফুটবলে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন এল এম টেন?
মেসি ফাইনালে পরাজয়ের পর স্টেডিয়ামে কোনও কথা বলেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মেসি। লম্বা পোস্টে মেসি লিখেছেন, 'ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক। এই ক্ষত শুকোতে সময় লাগবে। তবে আমি ভালগুলোও মাথায় রাখছি। যে ম্যাচগুলোয় আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম, নিজেদের সর্বস্ব উজার করে দিয়েছি, সেগুলো আজীবন স্মৃতিতে থেকে যাবে। গোটা দেশের সমর্থন পেয়েছি। সেই সঙ্গে এই ছেলেদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম আমাদের ফের বিশ্বের সেরাদের মধ্যে নিয়ে এসেছে। আমরা যা অর্জন করেছি, সব কিছুর জন্য প্রশংসা যথেষ্ট নয়। পরপর দুবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছি। প্রত্যেক শুভেচ্ছাবার্তা, মেসেজের জন্য হৃদয়ের অন্তর থেকে ধন্য়বাদ। আবার আমরা দেশ হিসাবে এককাট্টা হয়েছিলাম। আর্জেন্তিনীয় হওয়ার গর্ব অনুভব করেছি।'
স্পেনকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন মেসি। তবে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলসা করে কিছু বললেনি। যদিও কেউ কেউ বলছেন, পরের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক আর্জেন্তিনা। দেশের মাটিতে খেলার সুযোগ কি ছেড়ে দেবেন মেসি? তিনি যা পরিশ্রম করেন, ম্যাচ খেলেন, তাতে ফিটনেস বড় ব্যাপার হবে না। আবার কারও কারও মতে, পরের বিশ্বকাপের সময় মেসির বয়স হবে ৪৩ বছর। তখন তাঁর পক্ষে তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
স্পেন বনাম আর্জেন্তিনা ফাইনালের কিছু পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এসেছে। যা চমকে দেওয়ার মতো। ৬৫ শতাংশ বলের দখল ছিল স্পেনের। আর্জেন্তিনা বল দখলে রেখেছিল ৩৫ শতাংশ। ৮৫২টি পাস খেলেছে স্পেন। আর্জেন্তিনার ৪৬৪ পাসের প্রায় দ্বিগুণ। আর্জেন্তিনার গোল লক্ষ্য করে ২০টি শট নিয়েছে স্পেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ় ১১টি বাঁচিয়েছেন। যা বিশ্বকাপের ফাইনালে রেকর্ড। আর্জেন্তিনা সেখানে মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছিল।









