নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যত খণ্ডবিখণ্ড একুশে জুলাই (21 July) দেখলেন রাজ্যবাসী। আর এরই মধ্যে ফের শিরোনামে চলে এল 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর
একুশে জুলাই কর্মসূচি। কেন? কারণ 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) 'বাদানুবাদ'- এর ভিডিও ইতিমধ্যেই চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ 'কালীঘাট-তৃণমূল'-এর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘক্ষণ ধরে ভাষণ দেওয়ায় 'বিরক্তি প্রকাশ' করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাতেই ফের একবার 'অভিমানী' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় এবার কটাক্ষের সুর বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহার মন্তব্যেও।
'কালীঘাট তৃণমূল'-এর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বাদানুবাদ' নিয়ে বিঁধেছেন রাহুল সিনহা (Rahul Sinha)। একদম নাম নিয়েই একযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, "তৃণমূলটা (TMC) যে থাকবেই না, এ কথা তো আমরা বারবার বলে এসেছি। দিদি শেষে একা থাকবে। কল্যাণবাবুও থাকবে না, অভিষেকবাবুও থাকবে না। অভিষেকবাবু বিদেশে যেতে পারলেই হয়ে গেল। আর আসবে না, টাটা...। এত বড় সত্য কথা আমরা বারবার বলছি। কল্যাণবাবুর মতো একজন আইনজীবী বুঝতে পারলেন না? কখন বুঝলেন? যখন আধা গলাধাক্কা খেলেন। যখন স্টেজের মধ্যে অপমানিত হলেন, তখন বুঝতে পারলেন। এখনও ছাড়ছেন না? কারণ আরও গলাধাক্কা খাওয়া বাকি আছে। তারপর উনি ছাড়বেন।" বিজেপি সাংসদ (BJP MP) আরও বলেন, "সেই কারণে তৃণমূল বলতে কিচ্ছু থাকবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করেছেন তৃণমূল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাপ্ত করে দিয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন, আর কেউ থাকবে না। এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিতব্য"।
কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
একুশে জুলাইয়ের ঠিক পরদিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ফের একবার আক্রমণাত্মক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "একজন ভদ্রমহিলা এসে কী বলেছেন জানেন? দিদিকে বেরোতে বলুন, দিদিকে ঘুরতে বলুন। নয়তো আমরা সাহস পাচ্ছি না।" অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কী করছেন? শুধু নিজের বাড়ি আর কালীঘাট করলে তো হবে না, বেরোতে হবে ভাই। ডিম খাই, লাঠি খাই, গালাগাল খাই - এটা তো রাজনীতির অঙ্গ। ঘরে বসে থাকলে তো হবে না। আজও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ মমতাদিকে চাইছে।" তিনি যোগ করেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য লড়াই করতে আমি প্রস্তুত আছি। কিন্তু দিদিকেও বুঝতে হবে বাস্তবটা কী। দিদি যদি বাস্তবটা না বোঝেন তাহলে দিদি যে দল তৈরি করেছেন, দিদি নিজের হাতে সেই দল শেষ করবেন।"














