সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বয়স পঁয়ত্রিশ পেরিয়েছে। কিন্তু বল হাতে যখন রান আপ ধরে দৌড় শুরু করেন, এখনও চোখে আগুন। শিকারি বাঘের মতো নিঃশব্দে হামলা করছেন যেন। ব্যাটারকে
স্যুইংয়ের বিষে জর্জরিত করছেন। তাঁর বল খেলতে গিয়ে নাকানিচোবানি খাচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের তাবড় তারকারা।
তিনি, মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। জাতীয় দলে দিনের পর দিন উপেক্ষিত। ঘরোয়া ক্রিকেটে যেন সব আক্ষেপ বল হাতেই মেটাচ্ছেন। কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে সার্ভিসেসকে ছারখার করলেন। ম্যাচে ৭ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচটি। বাংলার ইনিংস জয়ের অন্যতম নায়ক।
শামির কাছে বয়স নেহাতই একটা সংখ্যা। কেরিয়ারের এই পর্বে দাঁড়িয়ে এত আগুনে স্পেল করছেন কীভাবে? প্রশ্ন শুনেই হাসলেন শামি। কল্যাণী থেকে ফোনে বললেন, 'বয়স একটা সংখ্যা। কোন লেভেলে খেলছি, সেটা কোনও ব্যাপার নয়। সিনিয়র, জুনিয়র, বয়স বেশি বা কম, যাই হোক না কেন, খিদেটা থাকতে হবে।'
ভারতের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছেন আড়াই বছর আগে। ওয়ান ডে ও টি-২০ ক্রিকেটে শেষবার জাতীয় দলে দেখা গিয়েছে বছর খানেক আগে। মাঝের সময়ে ঘরের মাঠে বারবার লজ্জার সামনে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া। কখনও নিউজ়িল্যান্ড, কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হার হজম করতে হয়েছে। অথচ শামিকে ফেরানো হয়নি দলে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফর্ম করার পরেও। রাগ হয় না?
শামি গভীর নিঃশ্বাস টানলেন। বললে হয়তো বিস্ফোরণ ঘটাতে পারতেন। তবে এখন তিনি অনেক পরিণত। বললেন, 'আমার হাতে রয়েছে পারফর্ম করা। সেটাই করছি। উইকেট নিচ্ছি। আমি খুশি। বাকি কাজ নির্বাচকদের। আমি সেরাটা দিচ্ছি। দেব।'
একসময় বিশ্বক্রিকেটের অন্যতম সেরা পেসার ছিলেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্যের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার মোটিভেশন পান কীভাবে? শামির সাফ জবাব, 'মোটিভেশনের জন্য আলাদা কিছু লাগে না। রঞ্জি ট্রফি এমনিতেই বিরাট একটা মঞ্চ। যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই এটা বিরাট প্ল্যাটফর্ম। আমরা যখন ছোট ছিলাম, কোনও ক্রিকেটার রঞ্জি ট্রফি খেলে ফিরলে বলতাম, দেখ ও রঞ্জি প্লেয়ার। এখন যেভাবে অনেকে জাতীয় দলে খেলা ক্রিকেটারদের দেখিয়ে বলে, দেখ ও ইন্ডিয়া খেলে। আজও রঞ্জি ট্রফির গুরুত্ব সেই একইরকম। রঞ্জি ট্রফিতে ভাল কিছু করার খিদে সব সময় থাকা দরকার। বাংলার হয়ে প্রথম যেদিন খেলেছিলাম, যে রোমাঞ্চ ছিল, আজও তাই রয়েছে। রাজ্য দলের হয়ে খেলার গর্ব সব ক্রিকেটারদেরই উপভোগ করা উচিত। আমিও উপভোগ করছি।'
রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে বাংলা। এবার কি দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটবে? শামি বলছেন, 'আশা সব সময়ই করি যে, রঞ্জি ট্রফি বাংলায় আসুক। আমাদের দল দুর্দান্ত। কারও দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। সবাই পারফর্ম করছে। দলের জন্য সেরাটা দিচ্ছে। এবার দীর্ঘদিন পর রঞ্জি ট্রফি জেতার সুযোগ আসবে বলেই আমার বিশ্বাস।' যোগ করলেন, 'নক আউট ম্যাচ কোথায় খেলা হচ্ছে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। কীরকম পিচে খেলা হচ্ছে, সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে খুব বড় কোনও বদল হবে না। নিজেদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে হবে। দল তোমার কাছে যেটা চাইছে, সেটা দিতে হবে। তাহলেই চলবে।'










