শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার : প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে বলতে শুরু করায় কেড়ে নেওয়া হল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সদস্যের মাইক। তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভায়
এক শিক্ষককে বলতে বাধা দেওয়া হল কোচবিহারে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যানের দাবি, শিক্ষক একই কথা বার বার বলায় তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
"প্রতিটা স্কুলের সঠিক পরিকাঠামো (রাজ্য) সরকারকে দেখতে হবে, যেটা মানুষের পক্ষে একটা নজরকাড়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।" বক্তা, তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সদস্য। সেই সংগঠন আয়োজিত অনুষ্ঠানেই সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ঢিলেঢালা মনোভাব থেকে সরব হলেন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনায়। ফলও পেলেন হাতেনাতে। কথার মাঝখানেই শিক্ষকের হাত থেকে মাইক কেড়ে নিলেন দুই তৃণমূল নেতা।
শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে তৃণমূলের জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য একাধিক শিক্ষক ও কোচবিহার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ বা DPSC-র চেয়ারম্যান রজত বর্মা, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান গিরিন্দ্রনাথ বর্মন। সূত্রের খবর, সভায় শিক্ষকদের সমস্যার কথা বলতে বলা হয়। মাইক হাতে বলা শুরু করেন সংগঠনের সদস্য এক প্রাথমিক শিক্ষক। তারপরেই বাধে বিপত্তি।
কোচবিহারে তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষক ইয়াসিন মিয়া বলেন, "আমাদের এলাকার অভিভাবক যাঁরা আছেন, তাঁদের আমরা বোঝাতে ব্যর্থ, কারণ যতটা ক্লাস ততটা শিক্ষকের দরকার। আমাদের শিক্ষকদের, নিজেদের মধ্যে একটা মানসিকতা আছে, যে আমরা আসি, যাই, মাইনে পাই, এটা আমাদের ত্যাগ করতে হবে, কারণ একটা বেসরকারি স্কুল ৫০ হাজার টাকা, এক লক্ষ টাকায় চলে, কিন্তু একটা সরকারি স্কুলে ৫জন শিক্ষক ৪০ হাজার টাকা করে বেতন পান, তাহলে ২ লক্ষ টাকা মাসে পায়।"
এসব কথা বলতেই থামিয়ে দেওয়া হয় ওই শিক্ষককে। শুধু থামানোই নয়, তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। বাকি শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া হয় সাবধানবাণী। বলা হয়, 'শিক্ষক, শিক্ষিকাদের বলা হচ্ছে, আপনারা, আপনাদের সমস্যগুলোর কথা চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরুন।'
এ প্রসঙ্গে কোচবিহার বিজেপির সহ সভাপতি বিরাজ বসু বলেন, "শিক্ষক সংগঠনের নেতা শীতলকুচিতে যে বক্তব্য রেখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের, তিনি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেছেন। শিক্ষা ব্যবস্থা যে বেহাল, সেটা তিনি উল্লেখ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসে যে গণতন্ত্র নেই একটা কথা বলার, সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে।"
যদিও মাইক কেড়ে নেওয়ার কথা মানতে চাননি DPSC-র চেয়ারম্যান রজত বর্মা। তিনি বলেন, "মাইক কেড়ে নেওয়া নয়, ওঁর যে বক্তব্য বা ওঁর যে চাহিদা, সেগুলো না বলে, একই জিনিস বার বার বলছিলেন, সেইজন্য ওঁকে বলা হল, একটা জায়গা থেকে উনি বলুন ওঁর কী বক্তব্য। মাইক কাড়ার বিষয়ই নেই, সবাইকে সীমিত বক্তব্য বলতে বলা হয়েছে।" পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা বেহাল- এই অভিযোগে বরাবরই সরব বিরোধীরা। এবার সেই সুর শোনা গেল তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সদস্যের গলায়। প্রকাশ্যে শিক্ষকের মাইক কেড়ে নেওয়ার ছবি, ভোটের আগে বিতর্ক বাড়িয়েছে।














