হিন্দোল দে, সুনীত হালদার ও অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা: অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গুদাম দুটো কি বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল? অভিযোগ, ইস্ট ক্যালকাটা
ওয়েটল্যান্ড অর্থাৎ জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল অভিশপ্ত গুদাম দুটি। আর, এনিয়েই এখন তুঙ্গে উঠেছে তরজা।
[yt]https://youtu.be/VQMYisgYXKQ?si=_p5W-V5mvjgecDC8[/yt]
আরও পড়ুন,পাঁশকুড়ার শিক্ষিকার হোটেলে রহস্যমৃত্যু ! পুলিশ দেখতেই কেন "কীটনাশক" খেলেন শিক্ষিকার বন্ধু ?
ক্যাপ্টেন বি পার্থসারথি বলেন, "ধারাবাহিকভাবে এই গোডাউনগুলি এখানে হচ্ছে, প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টি গোডাউন আছে এখানে। ..আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, ওয়েস্টবেঙ্গলে প্রশাসন কাজ করে না। এখানে পলিটিক্যাল লোকজনকে ব্লেম করে কিছু কাজ হবে না। " একটু ছ্যাকাতেই কতটা কষ্ট হয় আমাদের। আর, জীবন্ত দ্বগ্ধ হয়ে এভাবে তিলে তিলে মৃত্যু! একজন নয়, একাধিক! আনন্দপুরের কাছে নাজিরাবাদে, ২টি গুদামে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে যখন স্বজনহারাদের কান্না বাঁধ মানছে না, তখন অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই গুদাম দুটো কি বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল? ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড অর্থাৎ জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল অভিশপ্ত এই দুটি গুদাম?
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত বলেন," প্রায় ৩০ ভাগ ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড ভরাট হয়ে গেছে এবং সেখানে নির্মাণ হয়েছে বা হচ্ছে। বেআইনিটাই তো এখন আইনি। ভোটব্যাঙ্ক, নোটব্যাঙ্ক দুটো ব্যাঙ্ক যদি এক সাথে চলে আসে এবং কেউ তো দেউলিয়া হতে চায় না, সুতরাং পলিটিক্যাল স্ট্যান্ডটা হচ্ছে আমাদের ভোট আর নোটের উপর নির্ভর করে। আর দুটোই যেহেতু এই অবৈধ নির্মাণ থেকে ক্যাটার করা হচ্ছে, তাদেরকে কেউ ছুঁতে পারবে না। "
উত্তরে কলকাতা বাড়ার আর জায়গা নেই। দক্ষিণেও একই অবস্থা। পশ্চিমে গঙ্গা। ফলে জায়গা শুধু রয়েছে পূবে। অর্থাৎ, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে। কারণ সেখানেই রয়েছে বিঘার পর বিঘার জলাজমি। দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর যদি কলকাতার ফুসফুস হয়ে থাকে। তাহলে পূর্বের এই বিস্তৃর্ণ জলাভূমি হচ্ছে কলকাতার কিডনি। আর এখানেই বেআইনিভাবে জলাজমি ভরানোর অভিযোগ উঠছে!প্রশাসন কিংবা রাজনীতিবিদদের অলক্ষ্য়ে বেআইনিভাবে জলভূমি ভরাট করে নির্মাণ কি আদৌ সম্ভব? আর এখানেই বেআইনিভাবে জলাজমি ভরানোর অভিযোগ উঠছে!প্রশাসন কিংবা রাজনীতিবিদদের অলক্ষ্য়ে বেআইনিভাবে জলভূমি ভরাট করে নির্মাণ কি আদৌ সম্ভব? AICC সদস্য় সৌম্য় আইচ রায় বলেন,শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে জলাজমি ভরাট করছে। এই টাকার ভাগ যাচ্ছে নিচতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত। নেতা-মন্ত্রী-সান্ত্রী-MLA-MP-কালীঘাট-ক্য়ামাক স্ট্রিট কেউ বাদ যায় না এই টাকা নিতে।
দমকলমন্ত্রী বলছেন, জলাজমি ভরাট হচ্ছে কি না, তাঁর দেখার দায়িত্ব নয়! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে দেখবে কে? যাঁর দেখার দায়িত্ব তিনি কি দেখেও চোখ বন্ধ করে আছেন? দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, ওয়েটল্য়ান্ডের মধ্য়ে যদি কারখানা হয়ে থাকে, এটা ফায়ারের সাবজেক্ট না। ফায়ারের সাবজেক্ট হচ্ছে আগুন যেখানে লাগছে, সেখানে আগুন নেভানোর কাজ আমাদের। ওয়েটল্য়ান্ডের জন্য় যদি কোনও কারখানা হয়ে থাকে, ওখানে যারা দেখার দায়িত্বে আছে, তারা দেখবে। যদি এমনি ধরনের ঘটনা হয়ে থাকে, যেটা আইনগত ব্য়বস্থা আছে, নেওয়া হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য় সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন,"এখন আগে মানুষগুলোকে বাঁচাতে হবে...পরে যদি কারও দোষ থেকে থাকে, ব্য়বস্থা নিতে হবে।" সালটা ছিল ১৯৭১। গোটা বিশ্বের জলাভূমি সংরক্ষণ নিয়ে একটি সম্মেলন হয়েছিল ইরানের রামসর শহরে। তখনই গঠিত হয় জলাভূমি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক কমিটি RAMSAR...১৯৮২ সালে, জলাভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ কমিটি RAMSAR কনভেনশনে স্বাক্ষর করে ভারত। ভারতের ৯৬টি ওয়েটল্যান্ডকে চিহ্নিত করেছে RAMSAR। তার একটি ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড। কিন্তু সেটাও কি এখন বিপন্ন?














