প্রায় দুই দশক ধরে আলোচনার পর ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) চূড়ান্ত হয়েছে। যদিও এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে এবং আগামী
বছর থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তির সুবিধা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এফটিএ বাস্তবায়িত হলে, ইউরোপে পাঠানো প্রায় ৯৭ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক শূন্য হয়ে যাবে, যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্যে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার শুল্ক সাশ্রয় হবে। এছাড়াও, ইউরোপ থেকে আমদানি করা অনেক পণ্য ভারতীয় ভোক্তাদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা হবে।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে খাদ্য ও পানীয়ের উপর। ইউরোপ থেকে আমদানি করা চকোলেট, চিজ, পাস্তা এবং অন্যান্য খাদ্য পণ্যের উপর বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা এফটিএ-র পর পর্যায়ক্রমে শূন্যে নামিয়ে আনা হতে পারে। এর ফলে এই পণ্যগুলো আগের চেয়ে অনেক কম দামে ভারতীয় বাজারে পাওয়া যাবে।
বিয়ার ও মদের উপর বড় স্বস্তি
মদ ও ওয়াইনের দামেও উল্লেখযোগ্য স্বস্তি আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপীয় মদ ও ওয়াইনের উপর ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ আমদানি শুল্ক রয়েছে। এফটিএ-র পর এই শুল্ক ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা আরও কমানো হতে পারে। এর ফলে ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রিমিয়াম মদ আরও সাশ্রয়ী হবে।
মোটরগাড়ি খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে ভারতে ইউরোপীয় গাড়ির উপর ৭০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক রয়েছে, যা বিলাসবহুল গাড়িগুলোকে অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তোলে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর, প্রথম ধাপে উচ্চমানের গাড়ির উপর শুল্ক প্রায় ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে এবং পরবর্তীতে আরও কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ এবং অডির মতো ইউরোপীয় গাড়িগুলো ভারতীয় বাজারে তুলনামূলকভাবে সস্তা হবে।
কৃষি ও দুগ্ধ খাতের উপর প্রভাব
কৃষি ও দুগ্ধ খাতও প্রভাবিত হবে। ইউরোপ থেকে জলপাই তেল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে সেগুলোর দাম কমতে পারে। ভারতীয় কৃষক এবং কৃষি রপ্তানিকারকরাও ইউরোপীয় বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার পাবেন, যা কৃষি রপ্তানিকে উৎসাহিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত-ইইউ এফটিএ বাস্তবায়নের ফলে ভারতীয় ভোক্তারা দৈনন্দিন ব্যবহৃত অনেক আমদানি করা পণ্য কম দামে পাবেন, অন্যদিকে বিশাল ইউরোপীয় বাজার ভারতীয় শিল্প এবং রপ্তানিকারকদের জন্য আরও সহজলভ্য হবে। আশা করা হচ্ছে, এটি মূল্যস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে।










