হিন্দোল দে, কলকাতা : ভোররাত থেকে এখনও দাউদাউ করে জ্বলছে আনন্দপুরের গোডাউন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা নিয়ে। দমকল সূত্রে খবর, ৬ জন গোডাউন কর্মীর
খোঁজ মিলছে না। ঘটনাস্থলে কাজ করছে দমকলের ১২টি ইঞ্জিন। রাত থেকে সকাল, এখনও জ্বলছে আগুন। এলাকায় আতঙ্ক। বাইরের দিক থেকে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন দমকল কর্মীরা। যে গোডাউনে আগুন লেগেছে তার পাশে একটি ডেকরেটার্সের গোডাউন ছিল। সেটিও দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। একটা অংশ কার্যত ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। এই গোডাউনে রান্নার জিনিস, গ্যা সিলিন্ডার মজুত ছিল। সম্ভবত কর্মীরা রান্না করে খেতেন। এখানে গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ হয়েছে। ২টো গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শোনা গিয়েছে।
পিছনের অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকল কর্মীরা। সেখানে একটি মেস ছিল। সেখান থেকে লোকজনকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে বলে খবর। একটি দোতলা বাড়ি ছিল। সেখান থেকেও কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দমকলের ডিভিশনাল ফায়ার অফিসার জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে তাঁদের কাছে খবর এসেছে, ৬ জন কর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের অনেকের ফোন বন্ধ রয়েছে। অনেকের ফোন বেজে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছেন না। এদিকে দাউদাউ করে এখনও জ্বলছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থার এই গোডাউন। রাত ৩টে থেকে যে আগুন লেগেছে, সাড়ে ৬ ঘণ্টা পরেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি ওই আগুন। শোনা যাচ্ছে, গোডাউনে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা সঠিক ভাবে কাজ করছিল কিনা, তা পরে খতিয়ে দেখা হবে। ওই এলাকার একাধিক গোডাউনে প্রভাব পড়েছে আগুনের।
একাধিক গোডাউন রয়েছে এই অংশে। পিছনের দিকের একটি গোডাউনে ৩ জন আটকে পড়েছেন বলে খবর। ২ জন কর্মী এবং একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তাঁরাই ফোন করে জানান গোডাউনে আগুন লেগেছে। পরিবারের সদস্যরা এসে দেখেন দরজা বন্ধ। ভিতরে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকেও। আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। নিখোঁজ ৬ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে দমকলবাহিনী। উপরের টিনের শেডের অংশ দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে। কোথাও ভেঙে পড়েছে টিনের অংশ। তার ফলে গোডাউনের ভিতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। কোথায় গেলেন ওই ৬ জন? ভিতরে আতকে রয়েছেন? কী অবস্থায় রয়েছেন তাঁরা? উঠছে একাধিক প্রশ্ন।














