ঢাকা : ১৭ বছর পর ভোটের মুখে বাংলাদেশে ফিরে দেশবাসীর ভাগ্য বদলানোর বার্তা দিয়েছিলেন প্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্র, BNP-র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক
রহমান। খালেদা-পুত্রের কথায় ভরসা রাখল বাংলাদেশ। ২০ বছর পর বাংলাদেশে মাথা তুলল ধানের শিস। তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে বিশাল জয় পেল BNP জোট।
হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত বিদ্বেষের জিগির উঠেছে বাংলাদেশে। এই আবহেই খালেদা-পুত্রের ক্ষমতায় আসা। বিএনপির নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ সরকার ভারতের দিকে কতটা সৌহার্দ্যের হাত বাড়াবে , তা বলবে সময়। তবে তারেকের জয়ের খবর পৌঁছতেই সৌজন্য বার্তা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর তরফে।
পদ্মাপারে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে প্রয়াত খালেদা জিয়ার পুত্রের অভিষেক এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা। তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওপার বাংলার হবু প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এপার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীও। সোশাল মিডিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, 'এই বিরাট জয়ের জন্য তারেক ভাই, তাঁর দল এবং অন্যান্য দলকে আমার অভিনন্দন। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সব সময় সুসম্পর্ক বজায় থাকবে এই কামনা করি।' অস্থির বাংলাদেশে স্থিতাবস্থা ফেরানোর শুভকামনাও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 'বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে, জনগণকে, জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। '
অন্যদিকে, ' প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ভারত গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল বাংলাদেশের পক্ষে তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আমাদের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যগুলি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়ে আপনার সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা রাখছি। ' তারেক রহমানের সঙ্গে পরে ফোনেও কথা বলেন তিনি।
মহম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশে ভারত-বিদ্বেশের সুর যত চড়া হয়েছে, ততই বেড়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার হৃদ্যতা। ভোটের ফলে নজর ছিল ইসলামাবাদেরও। এখন তারেক রহমান কুর্সিতে বসলে বাংলাদেশের রাজনীতি এই পথে প্রবাহিত হয় কি না , সেটাই দেখার।
২০২৪ সালে কোটা সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল ছাত্র আন্দোলন। ধীরে ধীরে তা গণ আন্দোলনের চেহারা নেয়।
জোরাল হয় শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি। সেই চাপের মুখে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য় হন শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণবিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে বাংলাদেশে। পতন হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকারের। তার পর ৮ অগাস্ট মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। তার এতদিন পর অনুষ্ঠিত হল ভোট।














