কলকাতা: 'রাজার মুকুট.. রাজার সাজ..'.. প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) অভিনীত 'জুলফিকর' ছবির গানের লাইন। সেই লাইনই যেন কোথাও না কোথাও গিয়ে
মিলে যায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের সঙ্গে। দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যে রাজমুকুট নিজের জোরে অর্জন করেছেন, সেই মুকুটে নতুন পালক। পদ্মশ্রী পাচ্ছেন টলিউডের 'জ্যেষ্ঠপুত্র'। রবিবার সন্ধেয় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই যেন কার্যত আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে। বাঙালি যেন আরও এক গর্বের কারণ খুঁজে পেল.. প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পদ্মশ্রী পুরস্কার।
বছরের শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত সিনেমা, 'বিজয়নগরের হীরে'। এই ছবিতে কাকাবাবু-র ভূমিকায় ফিরছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বেশ কয়েক বছর পরে, কাকাবাবু হয়ে ফিরেছেন প্রসেনজিৎ। আজ সন্ধেয় সেই ছবি দেখে দর্শকদের কেমন লাগছে, তা জানতেই বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ঘুরছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময়েই তিনি পদ্মশ্রীর পুরস্কার পান। খবরটা তাঁর কাছে আনন্দের, আবেগেরও বটে।
এবিপি লাইভ বাংলাকে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলছেন, 'সারা ভারতবর্ষে আজ মানুষ কাকাবাবু আর সন্তুকে দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমিয়েছেন। সেই সময়েই, যখন আমি আমার দর্শকদের কাছে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ খবর পেলাম.. ভারত সরকারের কাছ থেকে, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে আমরা যে সম্মান পাই, সেই পদ্মশ্রীর যোগ্য মনে করা হয়েছে আমায়। আজকে সেটা অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হয়েছে। খবরটা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছি। সরকারকে অনেক ধন্যবাদ। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে এই পুরস্কার নেব।'
একটু থেমে প্রসেনজিৎ ফের বলেন, 'এই পুরস্কার আমার একার নয়। গত ৪০ বছর ধরে যাঁরা আমায় নিয়ে কাজ করেছেন.. আমার পরিচালকেরা, আমার প্রযোজকেরা, আমার সহ অভিনেতা অভিনেত্রীরা, আমার টেকনিশিয়ান্স বন্ধুরা, আমার নায়িকারা, আমার সঙ্গীত পরিচালকেরা.. এঁরা সবাই মিলে আমায় তৈরি করেছেন। আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। আমি তাই ঠিক করে কাজ করার চেষ্টা করে গিয়েছি। এত বছর ধরে কাজ করে আমি একা এই সম্মানটা পাইনি। যাঁরা আমার সঙ্গে এত বছর ধরে থেকেছেন, তাঁদেরও সম্মান। তাঁরা না থাকলে আমি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় হতে পারতাম না।'
টলিউডের 'বুম্বাদা' আরও বলেন, 'সবচেয়ে আনন্দ হচ্ছে, শুধুমাত্র বাংলা.. আমি ৯৮ শতাংশ বাংলা ভাষাতেই সিনেমা করেছি। বাংলা ভাষাতেই সিনেমা করে এই সম্মানের যোগ্য বলে মনে করা হয়েছে আমায়। আমার ছেলে মিশুক খুব খুশি। আমার সমস্ত সহকারীরা ভীষণ খুশি। কিন্তু যে মানুষটাকে মিস করছি, সেটা আমার মা। মা ছাড়া আমি প্রসেনজিৎ হতে পারতাম না। আর, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে যে মানুষটার জন্য... যিনি আমার মধ্যে নতুন করে একজন অভিনেতাকে খুঁজে পেয়েছিলেন, যিনি আজকে আমাদের সঙ্গে নেই.. কিন্তু আমার বিশ্বাস, উনি সবসময় আমার সঙ্গে রয়েছেন। আমার খুব কাছের বন্ধু, ঋতুপর্ণ ঘোষ। আজকে ও থাকলেও ভীষণ খুশি হত। আমি আমার দর্শকদের হাত জোড় করে বলব.. আপনারা এত বছর আমায় ভালবেসেছেন, আশীর্বাদ করেছেন। আপনাদের আশীর্বাদ ছাড়া আমি এটা পারতাম না। তাই এই সম্মান আপনাদেরও।'













