সমীরণ পাল, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, আশাবুল হোসেন, উত্তর ২৪ পরগনা: ব্যারাকপুরে, তৃণমূল কাউন্সিলরের মারে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ। ধৃত উঃ ব্যারাকপুরের ২৩নং ওয়ার্ডের
তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ। জামিন চেয়ে আদালতে সওয়াল ধৃত আইনজীবী ও তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের। জামিনের আবেদন খারিজ করে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ আদালতের।
[yt]https://youtu.be/v3XOhxjnKks?si=cDpJe4PL853QpLeO[/yt]
আরও পড়ুন, অভয়ার ৩৩-তম জন্মদিনে পথে নামল অভয়া মঞ্চ, শহরে মশাল মিছিল শুরু
ব্যারাকপুরে তৃণমূল কাউন্সিলরের মারে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগে ধৃত রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। মারধর, জোর করে আটকে রাখার ধারাও যোগ করেছেন তদন্তকারীরা। রবিবারই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কাউন্সিলরের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ। ব্য়ারাকপুরে মণিরামপুরে এই মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
রবিবার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই প্রেক্ষাপটে সামনে এল ঘটনার ঠিক পরের মুহূর্তের সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তুলসী অধিকারীকে হাত ধরে রাস্তা পার করাচ্ছেন এক ব্যক্তি। দেখেই বোঝা যাচ্ছে তিনি অসুস্থ, হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে।নিহতের পরিবারের দাবি, বেআইনি নির্মাণের কারণে নিকাশি ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় প্রথমে কাউন্সিলরের কাছেই যান তাঁরা,কিন্তু কাউন্সিলর যারা বেআইনি নির্মাণ করছে তাদের পাশেই দাঁড়ান।এরপরে পুরসভায় অভিযোগ জানানোয়, তৃণমূল কাউন্সিলর রেগে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহত তুলসী অধিকারীর পুত্রবধূ পারমিতা অধিকারী বলেন,অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে, প্রথমে একটা ধাক্কা মেরেছে, বাবা একবার পড়ে গেছে, আমার স্বামীকে চড়, থাপ্পড় মেরেছে। বলেছে আমার বউ মারা গেছে বলে তোদের এইটুকু মেরেছি, নাহলে এখানে পিটিয়ে মেরে ফেলতাম। বাবাকে ফের যখন লাথি মেরেছে, বাবা পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে। ' নিহত তুলসী অধিকারীর ছেলে হেমন্ত অধিকারী বলেন, (তৃণমূল কাউন্সিলর) আমাকে বলল, তুই বাড়ির বিষয়ে চিঠি দিয়েছিস? বলছে বৈধ, অবৈধ তুই জেনে গেলি, বলছে আমাকে জানিয়েছিল তোরা? অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেছে। বাবাকে বাজে ভাষায় গালিগালাজ করেছে, করাতে বাবা কলার ধরেছে বাবাকে ধাক্কা মেরেছে সঙ্গে সঙ্গে লাথি চালিয়েছে।
সোমবার মৃত বৃদ্ধের বাড়িতে যান ব্যারাকপুর পুরসভার উপ পুরপ্রধান শ্রীপর্ণা রায়। তাঁর সামনেও ক্ষোভ উগরে দেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। ধাক্কা মেরেছে, লাথি মেরেছে, পড়ে গেছে বাবা, তারপরে বাবা আবার উঠেছে, তারপরে বাবাকে আবার লাথি মেরেছে তখন বাবা অজ্ঞান হয়ে গেছে। একটা আধলা ইট তুলেছিল মাথায় মারবে বলে। বৃদ্ধের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার বিজেপি নেতা ও ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের নেতৃত্বে চিড়িয়া মোড় অবরোধ করে বিজেপি। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় বিজেপি কর্মীদের।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এখন কাউন্সিলর পেটে লাথি মেরে, মেরে ফেলছে। এরপর ক্যাবিনেট মন্ত্রী আরও কারোর পেটে লাথি মেরে, মেরে ফেলবে বিধানসভার সামনে। সেদিকেই এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ব্যারাকপুরের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এটা কিন্তু অন্য কোনও দল করে না। এই যে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া, এই ধরনের অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ।














