প্রদ্যোৎ সরকার, নদিয়া: চোখে জল। তবু, মুখ যেন উজ্জ্বল। বুকে দুঃখ চেপে যিনি বলে দিচ্ছেন, দেশের জন্য ছেলে শহিদ হয়েছে ভাবলে গর্বে বুক ফুলে ওঠে। 'আমি গর্বিত,
দেশ ওকে সন্মানিত করেছে,' চোখের জলে বলছেন শহিদ ঝন্টু আলি শেখের বাবা!
আজ ২৬ শে জানুয়ারি, বিগত বছরের মতো এ বছরেও দেশের বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় সেনাবাহিনীর তরফে। আর এ বছরের সেই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন নদিয়ার শহিদ ঝন্টু আলি শেখ। উধমপুরে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াইয়ে নিহত হন নদিয়ার গর্ব প্যারা-কমান্ডো ঝন্টু আলি শেখ। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স ছিল ৩৭ বছর। তাঁর পৈতৃক বাড়ি তেহট্টের পাথরঘাটা।
আর এবছর সেনাবাহিনীর তরফে মরণোত্তর সন্মানিত করা হয় তাঁকে । সেই খবর পেয়েই চোখের জলে আবেগপ্রবন হয়ে পড়েন পুত্রহারা শহিদ ঝন্টু আলি শেখের বাবা।
তিনি বলেছেন, 'আমি গর্বিত। ঝন্টু আমার সন্তান, সে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে।' বাঁধভাঙ্গা চোখের জলে পুত্রহারা বাবার গলায় ভেসে এল ছেলে না থাকার আরও এক কঠিন যন্ত্রণার কথা! তিনি দাবি করেন, তাঁর বৌমা, শহিদ ঝন্টু আলি শেখের স্ত্রী, তাঁর সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকেন। এমনকী যাবতীয় ক্ষতিপুরণের আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে সবটাই তিনি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। বাড়িতে থাকা নিয়ে হয়েছে অশান্তিও।
প্রজাতন্ত্র দিবসে ছেলেকে সন্মানিত করার আনন্দতেও যেন পুত্রশোকের ছবিটাই এদিন ধরা পরল শহিদ ঝন্টু আলি শেখের বাবার চোখে ।
এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস 'বন্দে মাতরম'-এর ১৫০ তম বর্ষ স্মরণে এবং ভারতের ঐক্য, বৈচিত্র্য এবং অগ্রগতি উদযাপনের জন্য পালিত হচ্ছে। নয়াদিল্লির কর্তব্য পথে কুচকাওয়াজ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে এবারের প্রজাতন্ত্র দিবস আয়োজিত হয়েছে ।
এই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই বিশিষ্ট নেতা ২৬ জানুয়ারি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন। সকাল ৯.৩০ মিনিটে রাষ্ট্রপতির জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর উদযাপনের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শুরু হয় । এরপর সকাল ১০.৩০ মিনিটে কর্তব্য পথে মূল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ধরে চলে ।













