কলকাতা: আশঙ্কা কেটেছে, কিন্তু উৎকণ্ঠা থেকেই যাচ্ছে! বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও, জয়ের নতুন নজির গড়ল জামায়াতে ইসালামী বা জামাত।
সত্তোরটির বেশি আসনে জিতছে জামাত এবং তার সহযোগী দলগুলো। সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতেই ভাল ফল করেছে তারা।
দক্ষিণবঙ্গ লাগোয়া সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্ঠিয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ লাগোয়া রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভাল ফল করেছে জামাত ও তার সহযোগীরা। আগে খালেদা জিয়া, এবং পরে শেখ হাসিনার আমলে, ভারত বিরোধী কট্টরপন্থীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাতের বিরুদ্ধে। তার সব থেকে বড় উদাহরণ হল বর্ধমানের খাগড়াগড়ে IED বিস্ফোরণ। ফলে, পদ্মাপারে জামাতের শক্তিবৃদ্ধিতে কি বাংলাদেশ এবং ভারতের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে?
পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ জেলাতেই জয়ী হল ভারতবিদ্বেষী জামায়াতে ইসলামি। সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ-সহ বাংলাদেশের একাধিক জেলায় জয়লাভ করল জামাত ও তার সহযোগীরা। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন, একসময়ের জোটসঙ্গী জামাতকে কি সহজেই মোকাবিলা করে সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে পারবে বিএনপি? বাংলাদেশে বন্ধ হবে এবার হিন্দুদের ওপর অত্যাচার?
প্রশ্ন উঠছে...দেশভাগের পর কিংবা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের পরও, বারবার অত্যাচারিত হয়েও, যে হিন্দুরা ওপারে থেকে গেছে, তাদের কপাল কি এবার পাল্টাবে? একমাত্র বঙ্গবন্ধুর সময় ছাড়া খালেদা হোক কিংবা এরশাদ, কিংবা শেখ হাসিনার যুগে লক্ষ লক্ষ হিন্দুকে অত্যাচারের জেরে উদ্বাস্তু হয়ে, নিয়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে এ পারে চলে আসতে হয়েছে তারেক জিয়ার আমলে কি তা পাল্টাবে?
বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। রাজ্য বিজেপির তরফে বাংলাদেশের মানচিত্রে এই বিন্যাস দেখিয়ে পোস্ট করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ফলাফলের এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য ওয়েক আপ কল।
বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের সদস্য নীহার হালদার বলেন, 'তারেক রহমান সাহেব, ৩০০ আসনেই যেখানে মাইনরিটি ভোট বেশি, সেখানেই আপনার দল বিজয় লাভ করেছে। এই মাইনরিটি ভোটেই আপনারা সরকার গঠন করেছেন। সেই মাইনরিটিদের হৃদয়ের স্পন্দন, কণ্ঠস্বর, চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে আপনার বিএনপি কর্মী চট্টগ্রামের, মামলা দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আপনি শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার দায়িত্ব থাকবে চিন্ময়কৃষ্ণ মহারাজকে মুক্ত করে দেওয়া।'
জয়ী বিএনপি প্রার্থী গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, 'কালকে একটা নির্বাচন হয়ে গেল। এই মুহূর্তে কি খবর আছে কোনও হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ হয়েছে? আওয়ামি লিগের সরকারের সময় এদেশের হিন্দুরা ঝাঁকে ঝাঁকে ভারতে চলে যায় কেন? আমার দেশের নাগরিক, এই দেশের মাটিতে তার জন্ম। তাঁর সমাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।'














