হিন্দোল দে, সুনীত হালদার, অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : দুঃস্বপ্নের রাত। অগ্নিগ্রাসে একের পর এক মানুষ। ২টি গুদামে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে যখন স্বজনহারাদের কান্না
বাঁধ মানছে না, তখন প্রশ্ন উঠছে, অগ্নিকাণ্ডে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এই গুদাম দুটো কি বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল? প্রশ্ন তুলছেন পরিবেশকর্মীরাও। অভিযোগ, ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড অর্থাৎ জলাভূমি বুজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল অভিশপ্ত গুদাম দুটি। আর, এনিয়েই এখন তুঙ্গে উঠেছে তরজা।
সালটা ছিল ১৯৭১। গোটা বিশ্বের জলাভূমি সংরক্ষণ নিয়ে একটি সম্মেলন হয়েছিল ইরানের রামসর শহরে। তখনই গঠিত হয় জলাভূমি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক কমিটি RAMSAR । ১৯৮২ সালে, জলাভূমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ কমিটি RAMSAR কনভেনশনে স্বাক্ষর করে ভারত। ভারতের ৯৬টি ওয়েটল্যান্ডকে চিহ্নিত করেছে RAMSAR । তার একটি ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড। কিন্তু সেটাও কি এখন বিপন্ন?
কলকাতা শহরে উত্তরে কলকাতা বাড়ার আর জায়গা নেই। দক্ষিণেও একই অবস্থা। পশ্চিমে গঙ্গা। ফলে জায়গা শুধু রয়েছে পূবে। অর্থাৎ, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের ধারে। কারণ সেখানেই রয়েছে বিঘার পর বিঘার জলাজমি। দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর যদি কলকাতার ফুসফুস হয়ে থাকে। তাহলে পূর্বের এই বিস্তীর্ণ জলাভূমি হচ্ছে কলকাতার কিডনি। আর এখানেই বেআইনিভাবে জলাজমি ভরানোর অভিযোগ উঠছে । আর এই জলাজমি বোজানো নিয়ে আপত্তি তুলে যাচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা, বহু বছর ধরে। আর গত কয়েক বছরে জলাভূমি বুজিয়ে গড়ে উঠেছে কংক্রিটের অরণ্য। প্রশাসন কিংবা রাজনীতিবিদদের অলক্ষ্য়ে বেআইনিভাবে জলভূমি ভরাট করে নির্মাণ কি আদৌ সম্ভব? প্রশ্নটা উঠছেই। আর এই প্রসঙ্গে শাসক দলের দিকেই আঙুল তুলছেন বিরোধীরা। 'শুধুমাত্র টাকার বিনিময়ে জলাজমি ভরাট করছে। এই টাকার ভাগ যাচ্ছে নিচতলা থেকে ওপরতলা পর্যন্ত।' অভিযোগ কংগ্রেস ও বিজেপির। আর এদিকে দমকলমন্ত্রী বলছেন, জলাজমি ভরাট হচ্ছে কি না, তাঁর দেখার দায়িত্ব নয় । কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে দেখবে কে? যাঁর দেখার দায়িত্ব তিনি কি দেখেও চোখ বন্ধ করে আছেন?
এদিকে দেখা গেল, আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যত নেই। ৫ কেজির ২ টো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এত বড় কারখানার ঠিক কোথায় বসানো তা জানেন না প্রায় কেউই। আর জেনেই বা কী! এত বড় জায়গার তুলনায় ২ টো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নেহাতই নগন্য।










