ঢাকা : সঙ্কটের মুখে বাংলাদেশের সুতোশিল্প। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পথে বসতে পারে বাংলাদেশের সুতো ব্যবসায়ীরা। সুতো আমদানিতে বাংলাদেশ বিরাট অঙ্কের শুল্ক ছাড় দেয়।
তার জেরেই মহাসমস্যায় পড়ছে স্থানীয় সুতো তৈরির কারখানাগুলো, দাবি শিল্প সংগঠনগুলির। তাই শুল্ক ছাড় বন্ধের দাবিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে স্পিনিং ইউনিট শাট ডাউনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে টেক্সটাইল মিলগুলির মালিকদের সংগঠন।
প্রশাসনকে চলতি মাসের মধ্যেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছে শিল্পমহল। এ মাসেই বন্ডেড ওয়্যারহাউস সিস্টেমে সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য-শুল্কের সুবিধা বন্ধের দাবি করা হয়েছে। টেক্সটাইল শিল্পপতিদের দাবি, বিনা শুল্কে যদি দেশে অধিকাংশ জামাপ্যান্ট তৈরির কারখানা সুতো আমদানি করতে পারে, তাহলে তারা ভারত বা চিনের উপরই ভরসা করবে,যা তারা এতদিন ধরে করে আসছে। স্থানীয় স্পিনিং মিলের বানানো সুতো কেউ আর কিনছে না। এমনটা চলতে থাকলে মহাসঙ্কটে পড়ে যাবে টেক্সটাইল মিলগুলি, দাবি মালিকদের। তাদের গ্রাস করতে পারে চরম আর্থিক সঙ্কট।
বাংলাদেশে ভারতের সুতো বিশেষ সমাদৃত। সুতির বস্ত্র তৈরিতে ভারতের সুতোর উপরই বেশি ভরসা করে তারা। অন্যদিকে পলিয়েস্টার সুতোর জন্য তাদের ভরসা চিন। শুল্ক ছাড় থাকায় বিদেশি ভাল মানের সুতো তারা কিনতে পারছে বাংলাদেশে তৈরি সুতোর থেকেও কম দামে। এর ফলেই মাথায় হাত টেক্সটাইল মিলগুলির। তাই সেদেশের প্রশাসনকে কারখানা মালিকদের আর্জি, যেন সুতো আমদানিতে কোনও ট্যাক্স-ছাড় না দেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, বস্ত্রশিল্পের জন্য ভারত থেকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতোই বেশি আমদানি করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। এই সুতো আমদানিতে এই সুবিধা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের সুতো কারখানাগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সেই কারণেই ইউনূস প্রশাসন নাকি সে-দেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এ চিঠিও লিখেছে। এখন এনবিআর কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার। তবে শুল্ক-ছাড় বন্ধ না করলে বড় সঙ্কটে পড়বেন বাংলাদেশের সুতো প্রস্তুতকারকরা।








