নয়াদিল্লি: নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সেই আবহেই ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-কে নিয়ে নয়া দাবি সামনে এল। আমেরিকার হামলা করতে পারে
আঁচ পেয়ে, তিনি ‘আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে’ আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর। শুধু তাই নয়, আয়াতোল্লার সেজো ছেলে মাসুদ খামেনেই এই মুহূর্তে বাবার দফতরের সমস্ত কাজকর্ম সামলাচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। (US Iran Conflict)
টাইমস অফ ইজ়রায়েল এই তথ্য় সামনে এনেছে। বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে দুর্গে পরিণত হয়েছে আয়াতোল্লার বাঙ্কারটি। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। বাঙ্কারটি মাটির নীচে তৈরি একাধিক সুড়ঙ্গপথের সঙ্গেও যুক্ত। ইরানের জলসীমার দিকে আমেরিকার সেনা এগোচ্ছে বলে সম্প্রতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পরই আয়াতোল্লাকে বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। (Ayatollah Ali Khamenei)
খামেনেই বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায়, এই মুহূর্তে তাঁর দফতরের যাবতীয় কাজ সামলাচ্ছেন ছেলে মাসুদ। দেশের সরকারের মন্ত্রী-আমলাদের সঙ্গে আয়াতোল্লার কথোপকথনেরও মাধ্যম হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে আয়াতোল্লা কোথায় আছেন, তা স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি।
সরকার বিরোধী আন্দোলনে ব্যাপক দমন-পীড়ন নিয়ে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে হুঁশিয়ারি, পাল্টা হুঁশিয়ারি চলছিলই। শুক্রবার রীতিমতো বাগযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় দুই দেশের মধ্যে। আমেরিকার সেনা ইরানের জলসীমার দিকে এগোচ্ছে বলে ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা ইরানের উপর নজর রাখছি। আমাদের অনেক জাহাজ ওই দিকেই এগোচ্ছে, যদি তেমন পরিস্থিতি দেখা দেয়…আমাদের বিরাট বাহিনী ইরানের দিকে এগোচ্ছে।”
এর পাল্টা ইরান জানায়, তারা আমেরিকার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের এক আধিকারিক বলেন, “এই যে সামরিক প্রস্তুতি…আশা করি আসল যুদ্ধের জন্য নয়। তবে আমাদের সেনা সবরকম পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। যে কারণে ইরানে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছোট-বড়, সব ধরনের হামলাকে এই সময় যুদ্ধ বলে মানব আমরা। প্রতিক্রিয়াও তেমন তীব্র হবে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আগেই জানিয়েছেন, আয়াতোল্লার উপর কোনও হামলা হলে, তা ইরানের উপর হামলা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বলেই ধরা হবে। তবে আয়াতোল্লা বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে মানতে নারাজ মুম্বইয়ে মোতায়েন ইরানের কনসাল জেনারেল সৈয়দা রেজ়া মোসায়েব মোটলাঘ। তিনি জানান, ইরান কোনও বিদেশি শক্তিকে ভয় পায় না। গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সর্বোচ্চ শাসকের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকাই দস্তুর। কোনও বাঙ্কার বা আশ্রয়স্থলে রয়েছেন বলে ভাবার কারণ নেই।










