Gujrat News: ছেলেক বাঁচাতে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই করেছেন বাবা। গুজরাতের গির সোমনাথ জেলায় চিতাবাঘের কবল থেকে ছেলেকে বাঁচানোর জন্য কাস্তে এবং বর্শা হাতেই লড়েছে
বন্যপ্রাণীটির সঙ্গে। বাবা-ছেলে দু'জনকেই আক্রমণ করেছিল চিতাবাঘটি। জানা গিয়েছে, কাস্তের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে চিতাবাঘটির। সন্ধেবেলা অন্ধকারের মধ্যে প্রথমে ৬০ বছরের প্রৌঢ়কে আক্রমণ করেছিল চিতাবাঘটি। তাঁর চিৎকার শুনে ঘরের ভিতর থেকে ছুটে আসে প্রৌঢ়ের ছেলে। এরপর চিতাবাঘটি ওই প্রৌঢ়কে ছেড়ে আক্রমণ করে তাঁর ছেলেকে। এরপরই বন্যপ্রাণের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় প্রৌঢ়ের। কাস্তে এবং বর্শা নিয়ে চিতাবাঘটিকে আক্রমণ করেন প্রৌঢ়। বাবা-ছেলে প্রাণে বেঁচে গেলেও চোট-আঘাত পেয়েছেন যথেষ্ট। অন্যদিকে, কাস্তের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে চিতাবাঘটির।
বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটেছে গুজরাতের গির সোমনাথের উনা এলাকায়। নিজের বাড়িতেই ছিলেন ৬০ বছরের বাবুভাই নারানভাই ভাজা। বাড়ির ভিতরেই বসেছিলেন তিনি। আচমকাই অন্ধকারের আড়াল থেকে তাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ে একটি চিতাবাঘ। অতর্কিত আক্রমণে প্রায় ধরাশায়ী হয়ে যান প্রৌঢ়। প্রাণ বাঁচানোর চিৎকার করতে থাকেন তিনি। বাবার চিৎকার শুনে ঘরের ভিতর থেকে ছুটে আসেন প্রৌঢ়ের ২৭ বছরের ছেলে শার্দুল। তাকে দেখতে পেয়ে বাবুভাইকে ছেড়ে তাঁর ছেলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চিতাবাঘটি।
ছেলেকে চিতাবাঘের কবলে দেখে, কাস্তে এবং বর্শা নিয়েই চিতাবাঘটিকে আক্রমণ করেন বাবা। কাস্তে এবং বর্শার আঘাতে মারা যায় চিতাবাঘটি। বাবুভাই জানিয়েছেন, বাড়ির ভিতর ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই চিতাবাঘ আক্রমণ করে। চিৎকার করে ভয় দেখিয়ে চিতাবাঘটিকে প্রথমে তাড়াতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চিতাবাঘ মোটেই ওসব চিৎকারে পাত্তা দেয়নি। সোজা ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রৌঢ়ের উপর। গলা চেপে ধরেছিল চিতাবাঘটি, জানিয়েছেন তিনি। কোনওমতে চিৎকার করে ছেলেক ডাকেন তিনি। কিন্তু ঘর থেকে ছেলে বেরিয়ে আসায় ঘটে আরেক বিপত্তি। তাঁকে ছেড়ে চিতাবাঘটি আক্রমণ করে শার্দুলকে। ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে যান বাবা। সেই সময় চিতাবাঘটি আবারও আক্রমণ করেছিল তাঁকে। বাবা-ছেলের উপর বারবার আক্রমণ চালাচ্ছিল চিতাবাঘটি। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে প্রাণ বাঁচাতে কাস্তে ও বর্শা দিয়ে চিতাবাঘটিকে মেরে ফেলেন বাবুভাই। খবর দেন বন দফতরে।
চিতাবাঘের বারবার আক্রমণের ফলে গুরুতর ভাবে জখম হয়েছিলেন ওই বাবা এবং ছেলে। প্রথমে উনা- র সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁদের। পরে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বন দফতরের কর্মীরা। চিতাবাঘের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যে কাস্তে এবং বর্শা দিয়ে চিতাবাঘটিকে আঘাত করা হয়েছিল, তাও বাজেয়াপ্ত করেন বন দফতরের কর্মীরা। এই ঘটনায় বাবুভাই এবং শার্দুলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে বনবিভাগ। বন্যপ্রাণীকে মেরে ফেলার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে তাঁদের নামে।










