কলকাতা: সিবিআই জেরার পরে, প্রথম জনসমাবেশ করলেন থলপতি বিজয়। তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)- এর নেতা এই মুহূর্তে একাধিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাঁর শেষ ছবি
মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। পাশাপাশি, করুর কাণ্ড নিয়ে তাঁকে জেরাও করেছে সিবিআই। তবে এবার, জনসভা করে বিজয় বার্তা দিলেন, চাপের মুখে নতিস্বীকার করবেন না তিনি। রবিবার মামল্লাপুরম থেকে সভা করে বিজয় বললেন, 'মাথা ঝোঁকাব না। চাপের মুখে নতিস্বীকার করব না।' এদিন বিজয় আরও বলেন, রাজনীতির ময়দানে সকলকে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে হবে ও এগিয়ে যেতে হবে।
থলপতি বিজয় বলেছেন, 'এটা শুধুমাত্র একটা নির্বাচন নয়, এটা একটা গণতান্ত্রিক লড়াই। গণতান্ত্রিক যুদ্ধে আপনারাই কমান্ডো, আপনারাই লড়াই করবেন।' থলপতি বিজয় ডিমকে ও এআইডিএমকে দলকে আক্রমণ করে দাবি করেন, অশুভ ও দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তির অধিকারীরা তামিলনাড়ুর প্রথম মুখ্যমন্ত্রী সি.এন. আন্নাদুরাইয়ের মতাদর্শের বিরোধিতা করে এসেছে।
এই বছরের শেষেই তামিলনাড়ুতে নির্বাচন হতে চলেছে। সেই নির্বাচনেই ডিএমকে-র বিরুদ্ধে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজয়ের টিভিকে। তাঁর বিভিন্ন জনসভায় ভিড় বলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর একটি স্বাভাবিক গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। তবে এই ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর মতো ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়, তা বারে বারেই বলেছেন অভিনেতা নিজে। অন্যদিকে, ঠিক নির্বাচনের আগেই বিজয়কে সিবিআই তলব রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পদপিষ্ট হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু মামলার তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সময়ে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী এবং এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ বলেন, এই ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য, তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এই কমিটির প্রধান করা হয় বিচারপতি অজয় রাস্তোগিকে। এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন, দুই আইপিএস অফিসার। বলা হয়, এই আধিকারিকরা তামিলনাড়ু ক্যাডারের হতে পারেন কিন্তু তামিলনাড়ুর স্থানীয় বাসিন্দা হতে পারবেন না। গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিজয়ের দল, তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর সমাবেশ হয় তামিলনাড়ুর কারুরে। সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বিশাল ব়্যালির আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে অংশ নিয়েছিলেন বিজয়। এই ব়্যালিতেই যোগ দিতে এসেই পদপিষ্ট হওয়ার মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হটে ও তামিলনাড়ুর ৪১ জন মানুষ প্রাণ হারান। সাম্প্রতিক রাজনীতির ইতিহাসে, এত বড় পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা কার্যত চোখে পড়েনি। গোটা দেশ জুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল এই ঘটনা নিয়ে।














