নয়াদিল্লি: রাশিয়ার থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর ‘শুল্কশাস্তি’ চাপানো হয়েছে। দু’দফায় মোট ৫০ শতাংশ শুল্কের বোঝা বইতে হচ্ছে ভারতকে। সেই আবহেই এবার নয়া প্রস্তাব
পেশ করল আমেরিকা। রাশিয়ার পরিবর্তে ভারত ভেনিজ়ুয়েলার থেকে তেল কিনতে পারে বলে জানিয়ে দিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার। (US-India Trade Deal)
আমেরিকা ‘শুল্কশাস্তি’ চাপানোর পর থেকে যত দিন গিয়েছে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। আর তাতেই ভেনিজ়ুয়েলা থেকে ভারতকে তেল কেনার প্রস্তাব দিল বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা আরও কমিয়ে দেবে ভারত। দৈনিক আরও কয়েক লক্ষ ব্যারেল কমিয়ে আনা হবে। (India May Buy Venezuelan Oil)
সামরিক পদক্ষেপ করে ভেনিজ়ুয়েলা থেকে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে নিয়ে গিয়েছে আমেরিকা। সেই থেকে ভেনিজ়ুয়েলার তেলের উপর কার্যতই দখলদারি কায়েম করেছে তারা। এখন সেই তেল ভারতকে বিক্রি করতে আগ্রহী ট্রাম্প সরকার।
আর তাতেঅ প্রশ্ন উঠছে, ভারত ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কিনলে কি ‘শুল্কশাস্তি’ লাঘব করবেন ট্রাম্প? কারণ ভেনিজ়ুয়েলা থেকে তেল কেনার দরুণই ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ভারতের উপর প্রথমবার ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এর পর ভেনিজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। শেষ পর্যন্ত গত ৩ জানুয়ারি ভেনিজু়য়েলায় ঢপকে মাদুরোকে ‘অপহরণ’ করা হয়।
মাদুরোকে বন্দি করেই ভেনিজ়ুয়েলার তেলের উপর আমেরিকার কর্তৃত্ব ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আর তাতেই এখন অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনিজু়য়েলার তেলের বিক্রি বাড়লে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে যেমন লাভ আমেরিকার, তেমনই এতে রাশিয়ার বিকল্পও তৈরি করা সম্ভব। তেল বিক্রিতে টান পড়লে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে বলে মনে করছেন ট্রাম্প। তবে ভারত এখন কী পদক্ষেপ করে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভেনিজু়য়েলার সরকারি তৈল সংস্থা PDVSA-র থেকে তেল কেনা যাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
২০২২ সালে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার তেলের অন্যতম ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। আর তাতেই ভারতের উপর চটেন ট্রাম্প। রাশিয়ার থেকে তেল কিনে ভারতও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মদত জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে তাঁর সরকার। সেই নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরেই টানাপোড়েন চলছে। আটকে গিয়েছে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিও। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন ভারতের তৈল মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী। তিনি জানান, রাশিয়া থেকে তেলের আমদানি যদি কমেও, অন্য উপায় বের করছে ভারত। তিনি সরাসরি ভেনিজু়য়েলার নাম নেননি যদিও। কিন্তু আমেরিকার থেকে ভেনিজু়য়েলার তেল নিয়ে প্রস্তাব আসতেই দুইয়ে দুইয়ে চার করে নিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
রয়টার্সের দাবি, শীঘ্রই রাশিয়ার থেকে তেল কেনা আরও কমিয়ে দেবে ভারত। দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেলের নীচে আনা হবে। জানুয়ারি মাসেও রাশিয়ার কাছ থেকে দৈনিক ১২ লক্ষ ব্যারেল তেল কিনেছে ভারত। ফেব্রুয়ারিতেই তা ১০ লক্ষের নীচে আনা হতে পারে। মার্চ নাগাদ আরও কমিয়ে করা হতে পারে ৮ লক্ষ ব্যারেল। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে সিলমোহর দিতে তা আরও কমিয়ে ৫ থেকে ৬ লক্ষ ব্যারেল করাও হতে পারে। বর্তমানে যে পরিসংখ্যান সামেন এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, গত দু’বছরের তুলনায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার থেকে সবচেয়ে কম পরিমাণ তেল কিনেছে ভারত। ভারতীয় তৈল শোধনাগারগুলি এই মুহূর্তে পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দিকে ঝুঁকছে।










