স্পেন ফিফা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। কয়েকজন স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়লেন আর্জেন্তিনার
মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পরপরই ক্যামেরায় দেখা যায়, পারেদেস স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। স্পেনের বিশ্বকাপ জয় উদযাপনের সময় পারেদেস দ্রুত গতিতে ওই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের দিকে ছুটে যান। পারেদেস তাঁকে দু'বার ঘুষি মারেন এবং বাকবিতণ্ডা যখন তীব্র আকার ধারণ করে, তখন গার্সিয়ার সতীর্থ গাভি এগিয়ে আসেন। তিনি দু'জনকে আলাদা করার এবং বার্সেলোনায় তাঁর সতীর্থকে জড়িয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
উত্তেজিত হয়ে পারেদেস গাভির দিকে হাত উঁচিয়েছিলেন। ঠিক তখনই আর্জেন্তিনার থিয়াগো আলমাদা হস্তক্ষেপ করেন এবং স্পেনের এই মিডফিল্ডারকে ধাক্কা দিয়ে নীচে নামিয়ে দেন, যাতে পারেদেসের হাতটি তাঁর গায়ে না লাগে। তবে আলমাদার সেই চেষ্টা সত্ত্বেও, উত্তেজনার চরম মুহূর্তে পারেদেসের হাতটি গাভির মুখে গিয়ে আঘাত করে। আর্জেন্তিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান মর্মান্তিকভাবে শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই এই ঘটনাটি ঘটে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্তিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি তাঁর খেলোয়াড়দের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসেন। অন্যথা পরিস্থিতি অত্যন্ত বাজে আকার ধারণ করতে পারত। FIFA World Cup 2026 Final
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি লিওনেল মেসি ভক্তর হৃদয়ভঙ্গ। অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর্জেন্তিনাকে ০-১ গোলের ব্যবধানে পরাস্ত করল তারা। প্রথম থেকে কার্যত খেলার রাশ একচেটিয়া নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছিল স্পেন। শেষও করল সেভাবেই। গোটা টুর্নামেন্টে মাত্র একটিই গোল খেয়েছে স্পেন। ফাইনাল ম্যাচে প্রথম থেকেই দাপট দেখাল স্পেন। বরাবর ম্যাচের রাশ রেখে দিল নিজেদের কাছে। তবে, একাধিক চেষ্টা স্বত্ত্বেও জালে বল ঢোকাতে পারছিলেন না স্প্যানিশ ফুটবলাররা। শেষমেশ ১০৬তম মিনিটে এল দুরন্ত গোল। ফেরান তোরেস জালে বল ঢোকাতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন স্প্যানিশ ফুটবল ভক্তরা। ২০১০ সালের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১১৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা স্পেনের জন্য প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব নিশ্চিত করেছিলেন। এবার সেই ইনিয়েস্তার পাশে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন ফেরান তোরেস—আজ ১০৬তম মিনিটে বাঁ পায়ের এক দুর্দান্ত শটে গোল করে।









