ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটের ভরকেন্দ্র বলা যেতেই পারে। কারণ এই কেন্দ্রর ভোটার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকেই
উপনির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি। ভবানীপুর বিধানসভা বরাবরই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। এবার কী বলছে ভবানীপুর ? এলাকার উন্নয়ন থেকে নারী নিরাপত্তা, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে কী বলছে মানুষ? ভবানীপুরের ভোটারদের কাছে এবিপি আনন্দ। 'নানা বেশ নানা ভাষা নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান'। বৈচিত্রময় ভারতবর্ষের চেহারাটা খুব ভালভাবে বোঝা যাবে ভবানীপুরে এলে। বাঙালির পাশাপাশি গুজরাতি, তামিল, মালয়ালি, পঞ্জাবী, সিন্ধি, বিহারী সবাই আছেন এই এলাকায়।
ভবানীপুরে ভারতের নানা প্রান্তের আলাদা আলাদা সংস্কৃতির এত মানুষ একসঙ্গে বাস করেন। এলাকাবাসীদের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক মতটা মজবুত? মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে মানুষের বক্তব্য, তারা সবকিছুর মধ্যে মিলেমিশেই আছে। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ভবানীপুর। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনের বহু আগে থেকেই নানা রাজনৈতিক জনসভায় ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর হুঙ্কার দিয়ে আসছেন। পাল্টা জবাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তৃণমূল বলছে কাকদ্বীপ থেকে কালিম্পং - শুভেন্দু অধিকারী যেখানেই ভোটে দাঁড়ান না কেন, তিনি ৫০ হাজার ভোটে হারবেন। গতবছর পুজোর পর বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানেই কার্যত ভবানীপুরে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভাপতি সুব্রত বক্সী। বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর থেকে বিপুল ভোটে জেতাতে হবে। সবমিলিয়ে ভবানীপুর নিয়ে চড়ছে পারদ।
সিপিএম নেতা সৌম্যজিৎ রজকের মতে, এই ভোটে তাঁদের প্রচারের অ্যাজেন্ডা হবে স্থায়ী নিয়োগ, যা সরকারি নীতিতে উঠে যাওয়ার উপক্রম। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ বলছেন 'চোরেদের রাজ্য। চুরি জোচ্চুরির সঙ্গে রাজ্য সরকার যুক্ত হয়ে গিয়েছে। যাদের চাকরি চুরি হয়েছে তাদেরই পেটানো হচ্ছে'। আর বিরোধীদের সব অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে ভবানীপুরের বাসিন্দা মদন মিত্র বলেন, বিরোধীদের এসব অভিযোগই নাকি এক্কেবারে বোকা বোকা। আর তারই জবাব তৃণমূলের উন্নয়নের পাঁচালি।
মমতা ম্যাজিক শেষ ?
২০২১ এর ভোটে প্রথমে ভবানীপুর নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম থেকে। আর মমতার এই সিদ্ধান্তকেই রুদ্রনীল বলছেন, তিনি আসলে বুঝে গিয়েছিলেন ভবানীপুরে তাঁর ম্যাজিক শেষ ! এবার লজিকে আসছেন মানুষ। আর মদন বলছেন, কলকাতার মধ্যমণি ভবানীপুর আর ভবানীপুরের মধ্যমণি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভবানীপুরের পরিসংখ্যান
রাজনৈতিক ভারে ভবানীপুর এগিয়ে রয়েছে সেই ২০১১ সাল থেকেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় বলা হয় এই কেন্দ্রকে। ২০১১ সালে ভবানীপুর থেকে জিতেই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। ২০১৬-য় তিনি ভবানীপুরে দীপা দাশমুন্সিকে ১৮ শতাংশের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। ২০২১ সালে ভবানীপুর থেকেই উপ-নির্বাচনে জেতেন। এমন হেভিওয়েট একটি কেন্দ্রকেই এবারে পাখির চোখ করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। পারবে কি ভবানীপুরে সবুজ গড়ের রং গেরুয়া করতে?














