অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : আনন্দপুরে ভয়াবহ অগ্নিগ্রাসে বহু জীবন। কেন ঘটনাস্থলে গেলেন না দমকলমন্ত্রী? তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। দুপুর থেকে নিজের এলাকাতেই
ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তবু, সারাদিনে ঘটনাস্থলে দেখা গেল না তাঁকে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেন। কিন্তু দমকলমন্ত্রী কী বললেন? অগ্নিকাণ্ড হলেই সবসময় ছুটে যাওয়া দমকলমন্ত্রী এদিন কোথায় ছিলেন?
প্রাক-প্রজাতন্ত্র দিবসে কয়েকটা গরীব মানুষ কাজের ফাঁকে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে রাতে আগুনে ঝলসে মরে গেলেন । পরিবারগুলো ভেসে গেল! অথচ সেদিন ঘটনাস্থলে গেলেন না দমকলমন্ত্রী । এই নিয়ে এখন জোর বিতর্ক! সূত্রের খবর, দুপুর থেকে লেকটাউনেই ছিলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। ঘটনাস্থল থেকে যে এলাকার দূরত্ব মেরেকেটে ৮ কিলোমিটার। তবু, সারাদিনে ঘটনাস্থলে দেখা গেল না তাঁকে। বিরোধীরা ঘটনাস্থলে তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, দাপুটে মন্ত্রী দাপটের সঙ্গেই জবাব দিলেন!
এই নাজিরাবাদ এলাকা সোনারপুর উত্তর বিধানসভা ও যাদবপুর লোকসভার মধ্য়ে পড়ে। আগুনলাগার প্রায় ন'ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন সোনারপুর উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম ও তাঁর স্বামী রাজপুর সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল নজরুল আলি মণ্ডল। কিন্তু দমকলমন্ত্রী কোথায়? প্রশ্ন করতেই নিজের মতো ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।
দমকলমন্ত্রী বললেন, 'দমকলমন্ত্রীকে কি সবসময় স্পটে থাকতে হবে? দমকলমন্ত্রী আছে। ... শুধু গেলেই তো হবে না। কাজটা করতে হবে। তাহলে ১২টা গাড়ি কী করে অর্গানাইজড হল? বিরোধীরা অনেক কথা বলে। কিছুদিন আগে অন্য রাজ্যে অনেক ঘটনা ঘটছে। ২৫-৩০জন মারা গেল। গোয়াতে মারা গেল। আরও বিভিন্ন জায়গায় মারা গেল। এসব নিয়ে সস্তার রাজনীতি করে বিরোধীদের লাভ নেই। আমাদের ডিউটি আমরা করছি।'
এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিরোধীরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন, 'দমকলমন্ত্রী উনি ফেস্টিভাল পালন করছেন। '
এদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, দেহগুলি এতটাই পুড়ে গেছে, যে চেনা যাচ্ছে না। তাই DNA টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। সন্ধেয় জেসিবি দিয়ে গোডাউনের কাঠামো ভেঙে নিখোঁজদের খোঁজ শুরু হয়েছে। এখনও খোঁজ মেলেনি অনেকের। নিখোঁজ কর্মীদের আত্মীয়দের দাবি, গোডাউনের দরজা ছিল তালাবন্ধ। জেসিবি দিয়ে লোহার কাঠামো সরিয়ে, শুরু হয়েছে খোঁজ। ক মুহূর্তে আনন্দপুর যেন মৃত্যুপুরী।















