রানা দাস, কালনা: পুরনো ও নতুন পদ্ধতির সংমিশ্রণে তার হাতেই তৈরি হয় জামদানি মসলিন শাড়ি। একটা দেশলাই বাক্সে রাখা যায় আস্ত একটা মসলিন শাড়ি। সেই হাতেই এবার
পদ্মশ্রী পুরস্কার তুলে নেবেন কালনার বাসিন্দা জ্যোতিষ দেবনাথ।
ছ'পুরুষ ধরে মসলিন শাড়ি বুনছেন দেবনাথ পরিবার। ৬৭ বছরের জ্যোতিষ দেবনাথ ৪৫ বছর ধরে মসলিন জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ করে চলেছে। কালনা পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড এর বাসিন্দা তিনি। জ্যোতিষ বাবু ৩০০ থেকে ৭০০ কাউন্টের মুসলিম সুতোয় শাড়ি বুনতে পারেন। একটা শাড়ি বুনতে সময় লেগে যায় তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত। তার হাতে তৈরি ৭০০ পয়েন্ট এর আড়াই মিটার কাপড়ের ওজন হয় "৬ গ্রাম"। তার শাড়ি বিশ্বের নানান প্রান্তে কদর পেয়েছে ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি , স্কটল্যান্ড এর মতো দেশেও।
জ্যোতিষ দেবনাথ বলেন পুরনো পদ্ধতিতে কাজ করলে অনেক বেশি সময় লাগে তাই নতুন ফর্মুলা তৈরি করে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। আগে মসলিন ছিল ফেব্রিক এর মধ্যে, এখন সেখানে তিনি জামদানি উপর কাজ করছে।
এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি প্রশিক্ষণও দিচ্ছেন এলাকার মানুষজনকে। তার তত্ত্বাবধানে কালনার বিভিন্ন জায়গায় বহু শিল্পী এই মসলিন জামদানির ওপর কাজ করে, আজ স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে। ২০১০ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পান তিনি।
অন্যদিকে, সাঁওতালি সাহিত্যে পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কালনা দুনম্বর ব্লকের বাদলা পঞ্চায়েতের রবিলাল টুডু। সাঁওতালি ভাষায় লেখালেখি করেন তিনি, বাইশটা বই লিখেছেন , রয়েছে প্রবন্ধ ,নাটক, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় "পারশি খাতির" তার লেখা "বীর বিরসা"স্নাতক ,স্নাতকোত্তর ও ইউপিএসসি সিলেবাসে রয়েছে।
৭৭ বছর বয়সের রবিলাল টুডু সাঁওতাল ভাষায় এখনো লিখে যাচ্ছে বই। তার লেখায় ফুটে উঠেছে সাঁওতালি ভাষার উপর ভালোবাসা, তাদের সংগ্রামের কথা।২০১৫ সালে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, ২০২২ বঙ্গভূষণ পুরস্কার পান।
ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন রবিলাল টুডু , উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই সাঁওতালি ভাষায় তার লেখালেখি শুরু হয়। ব্যাংকের চাকরির অবসরের পর তার লেখালেখির কাজ আরও বেশি চলতে থাকে।










