কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে আরও কেলেঙ্কারি ফাঁস হতে চলেছে বলে ইঙ্গিত দিলেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি। মমতা পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত বলেও দাবি তুললেন। অন্যথায় বিক্ষোভের ডাক দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি। (Abhijit Gangopadhyay News)
অভিজিৎ বলেন, "কিছু কেলেঙ্কারি এর মধ্যেই ফাঁস হবে। তখন আবার একটা জোরদার আওয়াজ উঠবে এই সরকার চলে যাওয়া নিয়ে। আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে এই কেলেঙ্কারি যদি ফাঁস হয়, তাহলে আমার মত, টানা ৭২ ঘণ্টা বনধ ডাকা উচিত গোটা পশ্চিমবঙ্গে। যত ক্ষণ না এই সরকার পদত্যাগ করছে, এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছেন রাজ্যপালের কাছে এবং পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হচ্ছে, তত ক্ষণ আমাদের বিক্ষোভ চলা উচিত।" (West Bengal BJP)
সেখানেই থামেননি অভিজিৎ। তাঁর বক্তব্য, "খুব শীঘ্র একটা কেলেঙ্কারি উদঘাটিত হতে পারে। যদি তা হয়, তাহেল ৭২ কেন, ১৪৪ ঘণ্টার বনধ ডাকতে হতে পারে। আমি ক্লু পেয়েছি। আমি অপেক্ষা করছি কী ভাবে পর্দাফাঁস করা যায়। আমার হাতে নেই এখনও। একটু সময় লাগবে। আর যদি পর্দাফাঁস না হয়, তাহলে আদালতেই দেখা হবে।"
অভিজিতের দাবি, দুর্নীতি হয়েই আছে, তার খবর ফাঁস হতে পারে। কে সামনে আনতে পারেন, তা খোলসা করেননি অভিজিৎ। তবে বলেন, "আদালতের কারমে সামেন নাও আসতে পারে। তবে আদালতের বাইরে যদি দুর্নীতি সামনে আসে, তাহলে ক্রমাগত বনধ ডেকে এই সরকারকে উৎখাত করা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।" দুর্নীতি শিক্ষাক্ষেত্রে না অন্য কোথাও, তাও খোলসা করেননি তিনি।
যদিও এ নিয়ে অভিজিৎকে কটাক্ষ করেন তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, "এই ডিসেম্বরে সরকার পড়বে, হাঁড়ি ভাঙবে, বেলুন ফাটবে বলে পাঁচ বছর ধরে বলে আসছেন। প্রত্যেক বছর ডিসেম্বরে ডেডলাইন দেন সরকার পড়ে যাবে বলে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের ঘরানা বা ধরন মেনটেন করছেন উনি। অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে এত কথা বলছেন, তিনি যে কদিন আগে প্যাটিস কাণ্ড থেকে একাধিক বিষয়ে বিজেপি-র নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, বিজেপি নেতৃত্ব কি তাঁর কথা শুনেছিলেন? তাঁর কথা অনুযায়ী চলেছিল? উল্টে ভিতরে ভিতরে তাঁকে চুপ করে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একজন প্রাক্তন বিচারপতি যেখানে নিজের দলকে চালনা করতে পারেন না, ভোটের আগে ভবিষ্যদ্বাণী করতে যাবেন না। বাংলার মানুষ জানেন, তাঁরা প্রস্তুত আছেন মানসিক ভাবে।"










