নয়াদিল্লি: রাত পোহালেই সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশ। ভারত-সহ গোটা বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই। BNP না জামাত-ই-ইসলামি, কার পাল্লা ভারী থাকবে, সেই নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া।
তবে এই শোরগোলের মধ্যেও একজন বিশেষ করে নজর কাড়ছেন, তিনি মনীষা চক্রবর্তী। কোটিপতি প্রার্থীদের সঙ্গে লড়াইয়ে ভাঁড়ে জমানো টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন মনীষা। পরীক্ষায় উতরোতে পারবেন কি তিনি? ফলাফল জানতে মুখিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও। (Bangladesh Election 2026)
মনীষার দাদা এবং বাবা মুক্তিযোদ্ধা। স্বভাবতই রাজনীতি তাঁকে বরাবর আকর্ষণ করত। তাই পেশায় চিকিৎসক হলেও, বর্তমানে তিনি সর্ব ক্ষণের রাজনীতিক। মনীষার দিদি তন্দ্রা চক্রবর্তী গবেষক। আমেরিকার লুইজিয়ানায় থাকেন। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সদস্য মনীষা। গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের সহযোগিতায় বরিশাল ৫ (সদর) থেকে প্রার্থী হয়েছেন। বরিশাল ৫ (সদর) আসনে তিনিই একমাত্র মহিলা প্রার্থী। এর আগে, ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি পৌরসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হন মনীষা। সেই সময়ও মাটির ভাঁড়ে জমানো টাকাকে বল করেই লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন তিনি। (Manisha Chakraborty)

এবারেও তার অন্যথা হয়নি। প্রচারপর্ব চলাকালীন অনুগামীরাও নিজেদের মাটির ভাঁড়ে জমানো টাকা মনীষার হাতে তুলে দিয়েছেন। মনীষাকে যাঁরা অর্থসাহায্য জুগিয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগই খেটে খাওয়া মানুষ, কেউ রিকশা চালান, কেউ চালান ভ্যান, কেউ আবার কারখানার শ্রমিক। সেই মর্মেই প্রচারের গান বেঁধেছেন মনীষা। তাঁর বক্তব্য, ‘অনেক তো কোটিপতিদের দেখেছেন, এবার সাধারণ মানুষের নেতা, গরিবের ডাক্তার মনীষা চক্রবর্তীকে ভোট দিন’। মনীষার দলের নির্বাচনী প্রতীকচিহ্ন মই। মনীষা নিজেও বাংলাদেশের সামাজিক উত্তরণ ঘটাতে চান। তাই পোস্টার-ব্যানার সেঁটে বক্তৃতা করার পরিবর্তে, মানুষের মধ্যে মিশে যেতে পছন্দ করেন। সকালে কয়েক ঘণ্টা হাঁটেন মনীষা। সেই সময়ই দোকানে দোকানে পৌঁছন। চা পান করেন স্থানীদের সঙ্গে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। কী ভাবে চলছে সব, কী দাবিদাওয়া রয়েছে, জেনে নেন খুঁটিয়ে।

মনীষা অনুরাগীদের কাছে ‘গরিবের ডাক্তার’ নামেও পরিচিত। বিনামূল্যে চিকিৎসা করার জন্য খ্যাতি রয়েছে তাঁর। মোটা বেতনের চাকরির পরিবর্তে রাজনীতি বেছে নিয়েছেন সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই। খেটে খাওয়া মানুষের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নামার দরুণই পরিচিতি তৈরি হয় তাঁক। ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান চালকদের জন্য রাস্তায় নেমেছেন বার বার। ২০১৮ সালে রিকশা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশ নেন মনীষা। গ্রেফতারও করা হয় তাঁকে। বরিশাল ৫ (সদরে) মনীষার প্রতিদ্বন্দ্বী BNP-র মজিবর রহমান সরোয়ার, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি ফয়জুল করিম এবং আরও তিন জন। প্রচারপর্ব শেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটারদের বার্তা দিয়ে মনীষা বলেন, “অনেকের কাছে হয়ত পৌঁছতে পারিনি। কিন্তু আমরা বলতে চাই, আমরা সকলের কাছে পৌঁছতে পারি, বা না পারি, আমরা কাজটা করতে চাই। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা বেরিয়ে আসতে চাই সকলকে নিয়ে। আপনাদের সিদ্ধান্তই এখন মূল বিষয়। আশা করি, আপনারা পরিবর্তনের পক্ষে থাকবেন।”

তবে বাকি প্রার্থীদের মতো অর্থ-প্রতিপত্তি নেই মনীষার। মাটির ভাঁড়, সাধারণ মানুষের অনুদানে ভর করেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছেন। নিজে থেকেই অনেকে সঞ্চয় উপুড় করে দিয়েছেন মনীষার জন্য। ‘প্রথম আলো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক রিকশা চালক জানান, নানা ভাবে হয়রানির শিকার হতে হয় তাঁদের। বড় বড় নেতাদের কাছে গিয়েও সাহায্য় পাননি। কিন্তু মনীষা তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অনুরাগীদের নিরাশ করতে চান না মনীষাও। জানিয়েছেন, কালো টাকা, দুর্নীতি নয়, সততা ও স্বচ্ছতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী তিনি। তাঁকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছেন বাংলাদেশের সাধারণ, খেটে খাওয়া মানুষও।














