নয়াদিল্লি: লোকসভার বাদল অধিবেশন থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাসপেন্ড । মহিলা সাংসদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । সরকারের
পক্ষে তৃণমূল সাংসদকে সাসপেনশনের প্রস্তাব দেন অর্জুন মেঘাওয়াল । ভোটাভুটিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেনশনের পক্ষেই সিলমোহর দেয় লোকসভা।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি বাদল অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁর বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, এক মহিলা বিদ্রোহী প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ, অধুনা এনসিপিআই সাংসদের উদ্দেশে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ। এছাড়া তিনি অগণতান্ত্রিক শব্দও ব্যবহার করেছেন বলে দাবি অভিযোগকারী সাংসদদের। এই ঘটনা ঘিরে লোকসভার কক্ষের ভিতরে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সাংসদ মিতালি বাগ, শতাব্দী রায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক সদস্যের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। এঁরা সকলেই একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। পরে দল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এই শব্দপ্রয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। ঘটনার পর মিতালি বাগ, কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ NCPI-র সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাঁর দফতরে দেখা করেন এবং ঘটনার অভিযোগ জানান। সংবাদসংস্থা PTI-র সূত্রে জানা গিয়েছে, স্পিকার তাঁদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরই কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
ভোটে ভরাডুবির পর-পরই তৃণমূলে ভাঙন ভয়াবহ চেহারা নেয়। তার মধ্যে তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কাজিয়া চরমে পৌঁছয় ! দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পর এবার সংঘাতের জল গড়ায় লোকসভার স্পিকারের কাছে নালিশ অবধি। গত জুনে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন আরেক সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বারবার অভিযোগ করেন, 'ইদানিংকালে একজন সাংসদ, তিনি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যেভাবে মহিলা সাংসদদের উপরে আক্রমণ করতেন এবং আমাকেও যে কথায় আক্রমণ করেছেন, সেই ভাষা অশালীন, অসভ্য, অশিক্ষিত এবং আমি এটা সমীচীন মনে করিনি।'
সাম্প্রতিক অতীতে লোকসভার মুখ্যসচেতকের পদ থেকে কাকলি ঘোষদস্তিদারকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, '৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথচলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম। ' এর ঠিক ১০ দিনের মধ্যে তৃণমূলের বারাসাত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আর তার পরপরই দলের সব পদ থেকেই ইস্তফা দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এরপরই লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দেন তিনি। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর অনুমতি চান। এখন এই সাংসদ বনাম সাংসদ সংঘাতের জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলের অন্দরে বড় ভাঙন দেখা গিয়েছে। এরপর প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেন। পরে তাঁরা লোকসভায় আলাদা আসনে বসা শুরু করেন এবং প্রকাশ্যে এনডিএ সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন।














