মুম্বই: তরপা। দমের বাদ্যি। মূলত শুকনো লাউয়ের খোল, বাঁশ এবং তালপাতার সাহায্যে তৈরি । গুজরাত, মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী তরপা নৃত্যের সঙ্গে জড়িয়ে এর মহারাষ্ট্রের এক
আদিবাসী সমাজের সংষ্কৃতির ইতিহাস। এই বাদ্য়যন্ত্রের সুরে নৃত্যের তালে তালে মেতে ওঠে নারী পুরুষ। ঐতিহ্যবাহী সেই বাদ্যযন্ত্রের ট্র্যাডিশনকে রক্ষা করা , বাঁচিয়ে রাখার জন্য পদ্ম-সম্মান পাচ্ছেন প্রবীন শিল্পী ভিখল্যা লাদাক্যা ধিন্দা। ১০ বছর বয়সে যে বাদ্যযন্ত্রে হাতেখড়ি তাঁর, সেই বাদ্যযন্ত্রই তাঁকে পুরষ্কার এনেদিন ৯০ বছরে।
সোমবার ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও তার আগের দিন, পদ্ম পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ এই তালিকায় উঠে এসেছে মহারাষ্ট্রের পালঘরের ৯০ বছর বয়সী আদিবাসী শিল্পী ভিখল্যা লাদাক্যা ধিন্দার নাম। ২০২৬ সালে 'তরপা' বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ ও প্রচারের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন তিনি। এই বাদ্যযন্ত্র ওয়ার্লি উপজাতির ঐতিহ্যবাহী লাউ ও বাঁশ দিয়ে তৈরি । প্রায় পাঁচ ফুট দীর্ঘের বাদ্যযন্ত্র তরপা । অদ্ভুদ মিঠে স্বর, যার তালে তালে রাতভর নৃত্যে মজে থাকে নারী পুরুষ। বহু বছর ধরে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন শিল্পী লাদাক্যা ধিন্দা।
প্রজাতন্ত্র দিবসে পদ্ম-প্রাপকদের মধ্যে 'আনসাং হিরো'দের তালিকায় রয়েছে বাদ্যযন্ত্র বাদক, ভিখল্যা লাদাক্যা ধিন্দার নাম। এই বয়সে এসে এমন সম্মান! সবকিছু যেন ঈশ্বরের আশীর্বাদ, এমনটাই মনে করছেন তিনি। শুধু ধিন্দার পরিবারে নয়, তাঁর সম্মানে উৎসাহিত গোটা পালঘরই। এ যেন গোটা গ্রামের স্বীকৃতির সম্মান। বিশেষ করে যে অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এই বাদ্যযন্ত্র প্রচলিত, তাঁরা মেতে উঠেছেন উৎসবে।
সম্মান পাওয়ার কথা শুনে ধিন্দা কার্যত আবেগ বিহ্বল। বললেন, " আমরা গরিব মানুষ, কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিই আমাদের আসল সম্পদ। আমার পরিবারে ২২ জন সদস্য। আমার অন্য কোনও পেশা নেই। সামান্য কৃষিকাজ এবং তরপা বাজনা তৈরি করেই আমরা বেঁচে থাকি," তিনি আরও বলেন, মহারাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া একটি পুরষ্কার তাকে তার পরিবারের জন্য একটি ছোট কুঁড়েঘর তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
রবিবার, ২০২৬ সালের পদ্মসম্মান প্রাপক হিসেবে ১৩১ জনের নামের তালিকায় সবুজসঙ্কেত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন ৫ জন, পদ্মভূষণ পাচ্ছেন ১৩ জন এবং পদ্মশ্রীতে সম্মানিত করা হচ্ছে ১১৩ জনকে৷










