নয়াদিল্লি: নতুন করে সখ্য তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও একধাপ এগোল। ১৪ বছর পর আবারও দুই দেশের মধ্যে সরাসরি
বিমান পরিষেবা চালু হল। বাংলাদেশের সরকারি বিমান সংস্থা ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে’র বিমান পাকিস্তানের মাটি ছুঁল। (Pakistan-Bangladesh Relations)
শুক্রবার নতুন করে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে। ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে’র BG-341 বিমানটি ঢাকা থেকে রওনা দেয়। নিরাপদে অবতরণ করে করাচির জিন্নাহ্ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখানে আনুষ্ঠানিক ‘ওয়াটার স্যালুট’ জানানো হয় বিমানটিকে। বিমানটিকে স্বাগত জানাতে বিরাট আয়োজনও হয়। (
Dhaka to Karachi Flight)২০১২ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে নন-স্টপ যাত্রী পরিষেবার সূচনা ঘটল। দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পর্যটনের জন্য এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স’ ওই বিশেষ মুহূর্ত উদযাপনে শামিল হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লেখে, ‘দীর্ঘ সময় পর প্রত্যাবর্তন। অত্যন্ত গর্ব এবং উষ্ণতা সহকারে বাংলাদেশের ভাইয়েদের স্বাগত জানাচ্ছে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স। আকাশপথেই দুই দেশের মন জুড়ে যাচ্ছে’।
A long-awaited return-PIA welcomes our brothers from #Bangladesh with pride and warmth.
— PIA (@Official_PIA) January 29, 2026
Two nations 🇵🇰🇧🇩 reconnecting hearts💕 through the skies.#PIA #Biman pic.twitter.com/N7DcuE6AsX
অন্য দিকে, বাংলাদেশে স্থিত পাক হাই কমিশনের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে লেখা হয়, ‘আজ পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবার সূচনা হল। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত বিমান চালাল আজ। ১৪ বছর বিরতির পর সরাসরি বিমান পরিষেবার এই সূচনা, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য মাইলফলক হয়ে রইল’।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নানা প্রতিক্রিয়া উঠে আসছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের একাংশ যেখানে এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তেমনই ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ছুড়ে দিয়েছেন অনেকেই। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তাঁরা। ভারতের আকাশপথ ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেউ কেউ।
২০১২ সালে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় ঢাকার তরফেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে এতদিন দুবাই বা দোহা হয়েই যাত্রা করতে হতো। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্য অনেক কিছুর মতো, পাকিস্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও বদলেছে। সেই মতোই নতুন কের সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হল।
তবে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে ভারতের আকাশসীমার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বল্প খরচে, কম সময়ে ঢাকা থেকে করাচি পৌঁছতে চাইলে, ভারতের আকাশসীমাই আদর্শ। কিন্তু এই মুহূর্তে ভারত এবং পাকিস্তান পরস্পরকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। যদিও ভারতের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পৌঁছতে ঘুরে যেতে হবে বিমানকে। তিন ঘণ্টার যাত্রাপথ আট ঘণ্টার যাত্রাপথে পরিণত হবে সেক্ষেত্রে। জ্বালানির খরচও বাড়বে, বাড়বে টিকিটের দামও।








