কলকাতা: নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ। মৃত্যুমিছিল ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হয়েছে। সেই আবহেই BNS ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকাকালীনই
নাজিরাবাদে মিছিল করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি-র নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিছিল করলেন শুভেন্দু। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্যাগ দাবি করলেন। (Anandapur Fire)
‘এত মৃত্যু কার স্বার্থে, মমতা প্রশাসন জবাব দাও’, ‘আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে অবিলম্বে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পদত্য়াগ চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এদিন নাজিরাবাদের রাস্তায় নামেন শুভেন্দু এবং বিজেপি-র কর্মী সমর্থকেরা। নাজিরাবাদ এবং সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বে, পাঁচ জনের বেশি জমায়েত করা যাবে না বলে ঘোষণা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে মিছিল করে এগিয়ে যান তাঁরা। (WOW Momo)
এখনও কেন নাজিরাবাদে গেলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার বিজেপি বিধায়ক, কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে পৌঁছে যান তিনি। বলেন, "এখানে মৃত্যুমিছিল। মুখ্যমন্ত্রী আসেননি। ওঁর বাড়ি ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। ওঁর আসার উচিত ছিল। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্ত্রী উনি, প্রশাসনিক প্রধান। পৌরমন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম এসেছেন, অরূপ বসু এসেছেন। ৩২ ঘণ্টা পর এসেছেন সুজিত বসু। তৃণমূলের অন্য কাউন্সিলরাও এসেছেন। কাউকে বাধা দেয়নি। আমি কাল দুর্গাপুর থেকে জানাই, দূর থেকে দেখব আমি।"
এদিন মিছিল করে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান শুভেন্দুরা। স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনও মোতায়েন ছিল সেখানে। একবারে চার জন করে ঘটনাস্থলে যাবেন বলে ঠিক করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, "এত বড় দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক কালে পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতে হয়েছে বলে জানা নেই আমাদের। অন্য জেলা থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কী পরিণতি হল দেখুন। আগুন লেগেছে মধ্যরাতে। দমকল এসেছে ছ'ঘণ্টা পর। কলকাতায় যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে বাসন্তী, গোসাবা, ক্যানিং, সাগর, পাথরপ্রতিমা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কী দুরাবস্থা! তরুণ সব ছেলে, ২৫-২৬-২৭ বছরের ছেলে। ছবি দেখলে চোখে জল আসবে। কেউ বেরোতে পারল না। জলাভূমি বুজিয়ে কী করে রেখেছে...টাকা ছাড়া আর কোনও কথা নেই। টাকা নিয়ে গোটা সোনারপুরকে বেচে দেওয়ার কাজ করেছে তৃণমূলের চোরেরা।"
শভেন্দুর দাবি, "গোডাউন ভাড়া দিয়ে মাসে দেড় লক্ষ টাকা বেআইনি ভাবে নেওয়া হয়। বিধায়কের অফিসে ৬০ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী রাজ্যের শাসকদল, স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন। আমরা বিজেপি আজ এসেছি বলে ১৬৩ ধারা লাগিয়েছে। অথচ বিরোধী দলনেতা মন্ত্রীর সমমর্যাদার। আমাদের টিম মৃতদের পরিবারের পাশে রয়েছে, কাজ করছে। আমরা লজ্জিত, মর্মাহত, তিনি যে দলেরই হোন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূর। তিন দিন পরও এখানে আসতে পারলেন না মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মমত্ববোধ, মানবিকতা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা, সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, রাজধর্ম পালন করলেন না এখানে। তাই আমাদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের ঘোর নিন্দা করি।" মমতার জবাব চেয়ে, সুজিতের পদত্যাগ চেয়ে শুক্রবার 'জনজোয়ারের'ও ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু।
শুধু তাই নয়, মৃতদের পরিবারকে যে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করে রাজ্য, তার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রত্যেককে ৫০ লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। চাকরি দিতে হবে পরিবারকে। আইসিকে সাসপেন্ড করতে হবে। পঞ্চায়েত ভেঙে দিতে হবে সরকারকে। জলাভূমি দখল করে বেআইনি গোডাউন চালানোর সঙ্গে যুক্ত সকলকে, মধুখোরদের জেলে পুরতে হবে বলে দাবিও জানান শুভেন্দু। নিখোঁজদের নিয়ে বিহিত না করলে আদালতে মামলার হুঁশিয়ারিও দেন। আগামী কাল 'সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানা চলো' অভিযানের ডাক দেন তিনি। সকাল ১১টা থেকে শুরু হবে মিছিল।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "SIR থামানোর জন্য চলে যান, সোনালী খাতুনকে বাঁচানোর জন্য চলে যান। তার জন্য সময় আছে। কিন্তু এখানে যে এতজন মারা গেলেন, এখনও আসার সময় হল না। এই হল আমাদের...ফিরহাদ হাকিম এসে বলছেন ওঁর সময় হয়নি। তাহেল ১৫ বছর ধরে কী করছিলেন? নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন? ভূমি দফতর তো মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে!"
অশোক দিন্দা বলেন, "আমরা এখানকার থানা, আইন, প্রোটোকল মেনে চলি। চাইলে ব্যারিকেড বাঙতে পারি। কিন্তু আমরা করব। আমাদের যেখানে আটকাবে, সেখানে বসে-দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাব। সরকারের যে কাজ করা উচিত, সেটা বিজেপি করছে।"















