বিজেন্দ্র সিংহ, সৌভিক মজুমদার ও আশাবুল হোসেন, কলকাতা : মাইক্রো অবজার্ভার নন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ERO–রা। সোমবার SIR মামলায় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। রাজ্য সরকারের ৮ হাজার ৫০৫ জন আধিকারিককে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ERO–রাই। SIR মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বড়সড় স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার। গত বুধবার সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত থেকে মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, শুধু ৮ হাজার ৩০০ মাইক্রো অবজার্ভার এবং বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে রোল অবজার্ভার নিয়োগ করেছে। যাতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে বসে AI দিয়ে মাইক্রো অবজার্ভাররা সব নাম ডিলিট করতে পারে।
এই প্রসঙ্গেই গতকাল সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ সওয়াল জবাব হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি N V আঞ্জারিয়ার বেঞ্চে। রাজ্য সরকার থেকে কতজন কর্মী ও অফিসার নির্বাচন কমিশন পেয়েছে ? মূলত এই নিয়েই দু-পক্ষ যুক্তি-পাল্টা যুক্তি দিতে থাকে। নির্বাচন কমিশনের তরফে অভিযোগ জানানো হয়, তারা অফিসার চেয়ে রাজ্য সরকারকে বারবার চিঠি লিখেছে, কিন্তু পর্যাপ্ত সহযোগিতা পায়নি।
রাজ্য সরকারের তরফে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা ৮০ হাজার BLO দিয়েছি। ৮ হাজারের বেশি ERO দেওয়া হয়েছিল, যারা সবাই গ্রুপ-বি অফিসার ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে আরও সাড়ে ৮ হাজার কর্মীকে দিয়েছে রাজ্য সরকার। শনিবার মেল করে জানানো হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৮ হাজার ৫০৫ জন গ্রুপ বি অফিসারকে নিয়োগ করছে।
পাল্টা কমিশনের তরফে দাবি করা হয়, অফিসারদের তালিকা দেওয়া হলেও, নাম জানানো হয়নি। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, ৪ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে যখন এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল, তখনই এটা করা উচিত ছিল। শুধু নাম দিলেই হবে না। তাদের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ওই ৮ হাজার ৫০৫ জন আধিকারিককে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে।
কিন্তু SIR প্রক্রিয়ার বাকি দিনগুলিতে মাইক্রো অবজার্ভারের কী ভূমিকা থাকবে ? প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চান, 'মাইক্রো অবজার্ভারে'র পদ কেন তৈরি করা হয়েছে ? উত্তর কমিশনের তরফে জানানো হয়, ERO এবং AERO-দের সাহায্য করার জন্য।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আর্জি জানান, দয়া করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ম্যানুয়াল দেখুন। সেখানে মাইক্রো অবজার্ভারদের কী ভূমিকা উল্লেখ রয়েছে।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, এখানে নির্বাচন পরিচালনার কথা বলা আছে। SIR-এর কথা বলা নেই। এখানে তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
এরপরই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ERO-রাই নিতে পারবেন। তবে নির্বাচন কমিশন চাইলে ERO এবং AERO পরিবর্তন করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, "এই যে মাইক্রো অবজার্ভাররা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, কারও নাম বাদ দিতে পারবেন না, এটা তো প্রথম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন। প্রথম থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট সেটাই বলছে।" অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, "যেখানে সন্দেহজনক আছেন, যার নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন আছে, এইরকম ভোটারদের যদি তালিকায় রাখেন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের কথায় বা নন্দিনী চক্রবর্তীর কথায় বা I-PAC-এর বুদ্ধিতে, তাহলে এই ERO-দের কপালেও ভবিষ্য়তে দুঃখ রয়েছে।" হুমকি-হুঁশিয়ারি-চাপ-এ রাজ্য়-ভিন রাজ্য়-এসবের মধ্য়ে মূল প্রশ্ন একটাই, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা কি শেষ অবধি তৈরি হবে?














