What is the story about?
বহু বছর ধরে বহু হিট ছবি উপহার দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা ইমরান হাশমি। সম্প্রতি তাঁর জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক সময়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। ছেলে আয়ানের ক্যানসার ধরা পড়ার মুহূর্ত থেকে কীভাবে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর গোটা জীবন বদলে গিয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতার কথাই তিনি তুলে ধরেছেন। যা জেনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন ভক্তরা। বাইরে থেকে হাসি খুশি মনে হলেও অভিনেতার মনে যে চাপা কষ্ট লুকিয়ে আছে তা এবার প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। ইমরান জানান, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একেবারে স্বাভাবিক একটি দিনেই হঠাৎ ঝড় আসে তাঁর পরিবারে। পরিবার নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় হঠাৎ করেই আয়ানের প্রস্রাবে রক্ত দেখতে পান তাঁরা। প্রথমে বিষয়টি খুব একটা গুরুতর মনে হয়নি। তবে সাবধানতার জন্য চিকিৎসকের কাছে গেলে শুরু হয় একের পর এক পরীক্ষা। চিকিৎসকরা জানান, আয়ান ক্যানসারে আক্রান্ত। মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে ওলট পালট হয়ে যায় সব কিছু। কেরিয়ার, কাজ, সিনেমা সবকিছু তখন একেবারে গৌণ হয়ে যায়। একজন বাবা হিসেবে সেই সময় তাঁর একমাত্র লড়াই ছিল ছেলেকে সুস্থ করে তোলা। চিকিৎসকদের পরামর্শে খুব দ্রুত শুরু হয় আয়ানের চিকিৎসা। অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘদিনের কেমোথেরাপির মধ্যে দিয়ে যেতে হয় আয়ানকে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ে প্রতিদিন ভয়, অনিশ্চয়তা আর আশার মধ্যে কেটেছে অভিনেতার পরিবারের। ইমরানের কথায়, এই সময়টা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল ঠিকই তবে ভেতর থেকে আরও শক্তও করে তুলেছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর শেষ পর্যন্ত আসে স্বস্তির খবর। কয়েক বছরের চিকিৎসার শেষে আয়ান সম্পূর্ণভাবে ক্যানসারমুক্ত হয়। আজ সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। সেই সময়ের কথা মনে করে ইমরান বলেন, ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তিনি মনে করেন, এই কঠিন সময় তাঁকে জীবনের আসল মূল্য এবং ধৈর্য ধরে থাকতে শিখিয়েছেন। অভিনেতার জীবনসংগ্রামের গল্প বহু বাবা-মায়ের কাছেই আজ অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।











