সন্দীপ সরকার, কলকাতা: টি-২০ বিশ্বকাপে তিনশো রানও উঠতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছেন কেউ কেউ। বৃহস্পতিবার ফিরোজ শাহ কোটলায় নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৭ ওভারের শেষে যখন ভারতের স্কোর ১০৪/১, ২০ বলে হাফসেঞ্চুরি করে ধুন্ধুমার
বাঁধিয়েছেন ঈশান কিষাণ, কেউ কেউ ভেবেছিলেন, ভারতই না ঘরের মাঠে তিনশো তুলে দেয়!
কিন্তু অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন জেরার্ড এরাসমাস (Gerhard Erasmus)। নামিবিয়ার অধিনায়কের নাম বৃহস্পতিবারের আগে পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের ক'জন শুনেছিলেন, হলফ করে বলা যায় না। তবে বৃহস্পতিবার থেকে অনেকেই তাঁর নাম মনে রাখবেন।
ভারতীয় ইনিংসের অষ্টম ওভারে বল করতে এলেন। প্রথম বলেই উইকেট। তুলে নিয়ে ভয়ঙ্কর দেখানো ঈশান কিষাণকে। তাঁকে পুল করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়লেন ঈশান। ভারতীয় শিবিরে প্রথম ধাক্কা।
তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। সেই ওভারে মাত্র ১ রান খরচ করলেন এরাসমাস। রুখে দিলেন সূর্যকুমার যাদবকে। সেই সূর্যকুমার, উইকেটের চারধারে শট খেলতে পারেন বলে বিশ্বক্রিকেটে যাঁর নামই হয়ে গিয়েছে নতুন 'মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি'। তবে প্রথম ওভার থেকেই চর্চা শুরু হল এরাসমাসের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে। পপিং ক্রিজে না ঢুকে, অনেকটা পিছন থেকে বল করছিলেন তিনি। সেই ওভারের ষষ্ঠ বলটি এমন করলেন যে, আম্পায়ার রড টাকার ডেড বল দিলেন। আম্পায়ারের সঙ্গে যা নিয়ে কথা বলতেও দেখা গেল নামিবিয়ার অধিনায়ককে। ষষ্ঠ বলটি আবার করতে হল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কাছে আতঙ্ক হয়ে উঠেছিলেন এরাসমাস। পরের তিন ওভারে তিনি আরও তিন উইকেট তুললেন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান খরচ করে ৪ উইকেট। শিকারের তালিকায়? ঈশান, তিলক বর্মা, হার্দিক পাণ্ড্য ও অক্ষর পটেল। টি-২০ ক্রিকেটে বিধ্বংসী সব নাম। অফস্পিনার এরাসমাস একটি বল করলেন মাথার ওপর দিয়ে হাত ঘুরিয়ে। তো পরেরটি করলেন স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে, অনেকটা লাসিথ মালিঙ্গার মতো করে। কোনও বল ডেলিভারির সময় পপিং ক্রিজে ঢুকলেন, কোনওটা করলেন বক্সের পিছন থেকে। ক্রিকেটপ্রেমীরা হতবাক। এমন অ্যাকশনে বল করতে বড় একটা দেখা যায় না। ভারতীয় ব্যাটাররাও থতমত খেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এরাসমাসের অ্যাকশন। কিন্তু এই বোলিং অ্যাকশন কি বৈধ? এভাবে স্টাম্পের পিছন থেকে বল করা যায়? কী বলছে নিয়ম?
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার, বাংলার অভিজিৎ ভট্টাচার্য বললেন, 'বোলার বল রিলিজ করার সময় আম্পায়ার যদি তাকে দেখতে পায়, অসুবিধা নেই। বক্সে ঢুকতেই হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। বোলারের সামনের পা পপিং ক্রিজ পেরিয়ে গেলে নো বল হয়। তবে বক্সে যে পায়ের কোনও অংশ থাকতেই হবে, এমন কোনও ব্যাপার নেই। যখন বোলারের ব্যাকফুট ল্যান্ড করার সময় রিটার্ন ক্রিজে তা স্পর্শ করে, তখন নো বল হয়। এক্ষেত্রে তা হয়নি বলেই মনে হয়।'
অভিজিৎ সদ্য মুম্বই বনাম কর্নাটকের রঞ্জি ট্রফি কোয়ার্টার ফাইনালের মতো হাই প্রোফাইল ম্যাচ পরিচালনা করে এসেছেন। মনে করিয়ে দিলেন, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি মুথাইয়া মুরলীধরন কাট করে বক্সে ঢুকে বল করলেও তাঁর ব্যাকফুট ল্যান্ডিং রিটার্ন ক্রিজে স্পর্শ করত না বলে সমস্যা হয়নি।
উইকেটের পিছন থেকে কিন্তু আম্পায়ারদের সামনে থেকে বল রিলিজ করছিলেন এরাসমাস। আম্পায়ার উইকেটের কতটা দূরে দাঁড়াবেন, এমন কোনও নিয়ম আছে? অভিজিৎ বললেন, 'নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। যে যার সুবিধামতো দাঁড়ায়। আমি ১৪ ফুট দূরে দাঁড়াই। রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালে কর্নাটকের স্পিনার শ্রেয়স গোপাল বাঁহাতি ব্যাটারকে রাউন্ড দ্য উইকেট বল করছিল ও অ্যাক্রশ যাচ্ছিল। আমাকে অনুরোধ করল একটু পিছিয়ে দাঁড়াতে। আমি ১৬ ফুট দূরে দাঁড়িয়েছিলাম।'
তবে স্লিঙ্গিং অ্যাকশনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হয়, মনে করিয়ে দিলেন অভিজিৎ। বললেন, 'বল রিলিজ করার সময় বোলিং আর্ম কাঁধের নীচে গেলে চলবে না। ওপর থেকে করতে হবে। না হলে আন্ডার আর্ম বল হয়ে যাবে।' এরাসমাস অবশ্য আন্ডার আর্মের ফাঁদে পড়েননি। তবে ঘোল খাইয়ে ছাড়লেন ভারতীয় ব্যাটারদের।














