কলম্বো: তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের বয়স মাত্র চার ম্যাচ। তবে ইতিমধ্যেই কিন্তু ক্রিকেটবিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছেন উসমান তারিক (Usman Tariq)। পাকিস্তানের 'মিস্ট্রি স্পিনার' টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup
2026) নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তিন উইকেট নেন। অবশ্য় তাঁর বোলিং অ্যাকশন বৈধ কি না, সেই নিয়ে কিন্তু জোর জল্পনা, তর্ক-বিতর্ক চলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তো অনেকে তাঁকে 'চাকার'-র তকমা পর্যন্ত দিয়ে ফেলেছেন। সেই তালিকা থেকে কিন্তু ক্রিকেটাররাও বাদ নেই। দিনকয়েক আগেই তারিকের বলে আউট হয়ে তিনি বল ছুড়ছেন বলে ইশারা করতে দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ান তারকা ক্যামেরন গ্রিনকে। মরুদেশের টি-টোয়েন্টি লিগে টম ব্যান্টনকেও একই অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গিয়েছিল। এই তারিকই কিন্তু সপ্তাহান্তে ভারতের (IND vs PAK) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারেন।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে যেখানে নেটিজেন থেকে ক্রিকেটাররা সকলেই তাঁর বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, সেখানে কীভাবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন তারিক? তাঁর বোলিং অ্যাকশন কি আদৌ বৈধ? আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, 'কোনও বোলার বল করার বদলে বল ছুড়লে সেটিকে অবৈধ হিসাবে গণ্য করা হয়। বোলারের বাহুর অনুভূমিক অবস্থান এবং তাঁর রিলিজ় পয়েন্টের মধ্যে তাঁর কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি ভাঙলে সেটি নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ।'
কিন্তু তারিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি হল তাঁর দুইটি কনুই রয়েছে। অবাক লাগলেও, এমনটি তিনি নিজেই জানিয়েছেন। ডাক্তারি পরিভাষায় এটিকে 'হাইপারমোবাইল এলবো' বলা হয়। এক্ষেত্রে কারুর হাতে দুইটি জয়েন্ট থাকে। মুথাইয়া মুরলিধরনেরও এটি ছিল এবং তাঁকেও নিজের কেরিয়ারে বারংবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। পাকিস্তান সুপার লিগে তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়েও দুইবার অভিযোগ জানানো হয়। দুই ক্ষেত্রেই পরীক্ষা দিয়ে তিনি ছাড়পত্রও পান।
অবশ্য বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও ভারতীয় প্রাক্তনী আর অশ্বিন কিন্তু তারিকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। অশ্বিন একটি পোস্ট করে লিখেছেন, 'ঠিক আছে। আমি পরিষ্কার করে দিই যে শুধুমাত্র আইসিসি বোলিং অ্যাকশন টেস্টিং সেন্টারে তাঁর অ্যাকশনের আইনি বৈধতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ১৫ ডিগ্রির একটি নিয়ম রয়েছে যার অধীনে বোলারকে তাঁর কনুই সোজা রাখতে হয় এবং অনফিল্ড আম্পায়ারের পক্ষে এটা নির্ধারণ করা অসম্ভব যে বোলার সেই ১৫ ডিগ্রির চিহ্নের মধ্যে বোলিং করছেন কিনা। এর একমাত্র সমাধান হল প্রতিযোগিতায় রিয়েল টাইম টেস্টিং টুল থাকা। উপরে বলা বিষয়গুলি একটি ধূসর এলাকা এবং কারও উপর ধূসর এলাকার ব্যবহারের অভিযোগ আনা ভুল। সবশেষে, ক্রিজে থামা বৈধ কি না, এবং আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ বৈধ কারণ এটি ওর স্বাভাবিক অ্যাকশন।'
যেখানে তাঁকে নিয়ে এত শোরগোল, সেখানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে তর্ক-বিতর্ক নিয়ে কার্যত নির্লিপ্ত তারিক নিজে। বরং তিনি মনে করছেন এই বাড়তি চর্চা ভারতীয় ব্যাটারদেরই চাপ বাড়াবে। 'আমার মনে হয় ওদের উপরেই বাড়তি চাপ থাকবে। ওরা যেভাবে এইসব বিষয়গুলিকে নিয়ে আলোচনা করছে, তাতে মনে হচ্ছে ওরাই চাপে থাকবে।' দাবি পাকিস্তানি স্পিনারের।
তারিককে নিয়ে তর্ক-বিতর্কের মাঝে একটা বিষয় স্পষ্ট, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ২২ গজের লড়াইয়ের বেশ খানিকটা আগেই কিন্তু মাঠের বাইরের লড়াইটা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এবিপি লাইভ










