লাহৌর: টানটান উত্তেজনা। পরতে পরতে নাটক। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup) ভারত বনাম পাকিস্তান (India vs Pakistan) ম্যাচ ঘিরে বাইশ গজের বাইরে রুদ্ধশ্বাস চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে লাহৌরে। যেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট
বোর্ডের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন আইসিসি প্রতিনিধিরা। ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। যে বাংলাদেশকে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই ছেঁটে ফেলা হয়েছে, তাদের প্রতিনিধিও হাজির লাহৌরে। সেই বৈঠকে কী হল?
ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের রাস্তা থেকে সরে আসার কথা বিবেচনা করা হতে পারে, আইসিসি-কে জানিয়েছে পাক ক্রিকেট বোর্ড। তবে পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে তিন শর্ত। এক, আইসিসি-র লভ্যাংশ থেকে যে অর্থ পায় পাকিস্তান, শোনা যাচ্ছে সেই পরিমাণ বাড়াতে বলেছে পিসিবি। অর্থাৎ, আইসিসি কোষাগারের দিকে নজর পড়েছে পাকিস্তানের! দুই, ভারতকে তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বলা হোক, এমন দাবিও জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবেই ভারতের সঙ্গে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলার কথা ভেবে দেখবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। ভারত-পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ করার দাবিও জানানো হয়। তিন, পিসিবি দাবি জানিয়েছে যে, কোনও ম্যাচে ভারতকে তাদের ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা চালু করা হোক। এশিয়া কাপের সময় যা করেনি ভারত। যা নিয়ে জলঘোলাও হয়েছিল।
তবে সূত্রের খবর, পাকিস্তানের তিন দাবিই সাফ নাকচ করে দিয়েছে জয় শাহর আইসিসি। সাফ বলে দেওয়া হয়েছে, কোনও দাবিই মানা সম্ভব নয়। ভারত ম্যাচ বয়কট করলে যে বড় শাস্তির খাঁড়া নেমে আসতে পারে, বৈঠকে সেই কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভিকে।
শোনা যাচ্ছে, বল এখন পাকিস্তানের কোর্টে। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পিসিবি। সূত্রের খবর, শরিফের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করতে পারেন নকভি। কলম্বোয় ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। দ্রুত এ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান ঘোষণা করতে পারে পাকিস্তান। যাতে কলম্বোয় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পায় সম্প্রচারকারী চ্যানেল। কিংবা, টিকিট কেটে মাঠে খেলা দেখতে যাবেন বলে ঠিক করে রেখেছেন যে দর্শকেরা, তাঁরাও যাতে সফরসূচি সাজাতে পারেন সময় মতো।
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজনের জন্য নিশ্চয়তা দেওয়া যে আইসিসি-র এক্তিয়ারের বাইরে, এবং সেটা যে সম্পূর্ণ বিসিসিআইয়ের বিষয়, তা সাফ জানানো হয়েছে পাক বোর্ডকে। এ বছরেই ভারতের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সফর নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রবল চাপে পাকিস্তান। হয় তাদের অবস্থান পাল্টাতে হবে। নচেৎ বিরাট শাস্তির মুখে পড়তে হবে। পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন কোণঠাসা মহসিন নকভি।














