What is the story about?
বর্ধমান: ভোট যত এগোচ্ছে, হুমকি-পাল্টা হুমকি আর হুঁশিয়ারিতে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি। এবার পূর্ব বর্ধমান। তৃণমূল বিধায়কের কড়া নিদান। বিজেপি নেতার বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাল্টা সভা থেকে নিদান দিলেন শাসকদলের বিধায়ক।
বিজেপির লোকেরা প্রচারে গেলে তাদের বেঁধে রেখে দেওয়ার নিদান! শুক্রবার বিকেলে বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড়ে একটি সভা থেকে এমনই বার্তা দেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস। সভার মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "যারা বিজেপির প্রচারে যাবে, তাদের ধরে বেঁধে রেখে প্রশ্ন করতে হবে, কেন নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে বাংলার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে? কেন বাংলার মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারবে না, কেন তাদের খাদ্যাভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?" বিধায়ক আরও বলেন, “তুমি বসবে আমাদের বাড়িতে, আগে জবাব দেবে, তারপর যাবে। তারপর ভোট চাইতে আসবে।” কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে বিধায়ক বলেন, "চাইলে আমরা কী না করতে পারি। পাঁচ মিনিটে বিজেপির মিটিং বন্ধ করে দিতে পারি।"
সভায় বিধায়ক খোকন দাস দাবি করেন, গোটা বাংলা থেকে ৩০টির বেশি আসন বিজেপিকে পেতে দেওয়া হবে না। কয়েকদিনের মধ্যেই তা প্রমাণ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আরও বলেন,
"বিজেপির কোনও বিধায়ক নেই যিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন যে তিনি নিজের কেন্দ্র থেকে জয়ী হবেন।" তাঁর দাবি, ভোট ঘোষণার পর বিজেপির বিধায়করাই দলে দলে তৃণমূলে যোগ দেবেন। এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, "বাংলায় হিংসার রাজনীতির জন্ম দিয়েছে সিপিএম। আর এখন তা লালনপালন করছে তৃণমূল। তৃণমূল নেতারা হুমকি ও শাসানি দিচ্ছে, অথচ পুলিশ প্রশাসন নীরব। তারা দলদাসে পরিণত হয়েছে।" ভয় পেয়ে তৃণমূল এভাবে বিজেপিকে দমিয়ে রাখতে চাইছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই বিষয়ে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, "বেঁধে রাখা মানে আক্ষরিক অর্থে প্রতিরোধ করা। কারণ বিজেপি ঠিক করে দেবে কে কী খাবে, কে কী পরবে, তা হতে পারে না। ওরা ফরমান জারি করছে। তাই বিধায়ক সেই ফরমানের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।" গত শনিবার এই বর্ধমান শহরের বড়নীলপুর মোড়ে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সভায় বিজেপি নেতা প্রবাল রায় বলেন, "এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। যেখানে প্রেস মিডিয়াকে মেরে ফেলা হচ্ছে। আর পুলিশ লুকচ্ছে টেবিলের তলায়। এটা বেশিদিন চলবে না। যেদিন লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি হিন্দু অস্ত্র হাতে ধরবে, সেদিন আর টেবিলের তলায় থাকবে না, শুনে নিন প্রশাসনের কার্যকর্তারা।" এই বক্তব্যের ঠিক সাতদিনের মাথায় তৃণমূল বিধায়কের গলায় শোনা গেল পাল্টা হুঁশিয়ারির সুর।














