মহেন্দ্র সিং ধোনি: ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ও ট্রফির জাদুকর
মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে গণ্য করা হয়, যার প্রধান কারণ হল তার আইসিসি ট্রফির ভান্ডার। তিনি বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক যিনি তিনটি প্রধান আইসিসি ট্রফি জিতেছেন: ২০০৭ সালের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। তার শান্ত স্বভাব এবং চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে ‘ক্যাপ্টেন কুল’ তকমা দিয়েছে। ধোনির নেতৃত্বে ভারত ৩৩২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, যা ভারতীয় অধিনায়কদের মধ্যে সর্বাধিক। এর মধ্যে তিনি ১৭৮টি ম্যাচ জিতেছেন। ওয়ানডেতে তার সাফল্যের হার প্রায় ৬০ শতাংশ, যেখানে তিনি ২০০টি ম্যাচে ১১০টি জয় পেয়েছেন। টেস্টে তার রেকর্ড কিছুটা সাধারণ মানের হলেও, তার নেতৃত্বে ভারত প্রথমবার টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল। তবে তার সাফল্যের মূল মাপকাঠি হলো বড় টুর্নামেন্ট জেতার ক্ষমতা, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
বিরাট কোহলি: আগ্রাসন ও পরিসংখ্যানে অপ্রতিরোধ্য
বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বের যুগ ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন আগ্রাসনের জন্ম দিয়েছিল, বিশেষ করে টেস্ট ফরম্যাটে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে কোহলি ভারতের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে ভারত ৬৮টি টেস্ট খেলে ৪০টি জিতেছে, যা অন্য যেকোনো ভারতীয় অধিনায়কের চেয়ে বেশি। তার জয়ের হার প্রায় ৫৯ শতাংশ। কোহলির নেতৃত্বে ভারত বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জিতেছে (২০১৮-১৯)। তার সময়েই ভারতীয় দল একটি অপ্রতিরোধ্য পেস বোলিং আক্রমণ তৈরি করে এবং টানা কয়েক বছর টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও কোহলির রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়। ৯৫টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ৬৫টি জিতেছেন, যেখানে তার জয়ের হার ৬৮ শতাংশেরও বেশি। তবে কোহলির অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হলো একটিও আইসিসি ট্রফি না জেতা। তার নেতৃত্বে ভারত ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলেও শিরোপা জিততে পারেনি।
রোহিত শর্মা: আধুনিক যুগের ‘হিটম্যান’ অধিনায়ক
রোহিত শর্মার অধিনায়কত্বের সময়কাল বিরাট বা ধোনির মতো দীর্ঘ না হলেও, তার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। রোহিত মূলত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার নেতৃত্বের দক্ষতার জন্য পরিচিত। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করে তিনি আগেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েও তিনি সাফল্য পান। তার নেতৃত্বে ভারত ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে, যা ১১ বছরের আইসিসি ট্রফির খরা কাটিয়ে দেয়। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, তিনি ভারতকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও জেতান। রোহিতের অধিনায়কত্বে জয়ের হার খুবই উঁচু। টি-টোয়েন্টিতে তার জয়ের হার প্রায় ৮০ শতাংশ, যেখানে তিনি ৬২টি ম্যাচের মধ্যে ৫০টি জিতেছেন। ওয়ানডেতেও তার সাফল্যের হার ৭৫ শতাংশের বেশি। তার শান্ত এবং কৌশলগত মস্তিষ্কের জন্য তাকে ধোনির সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার সময়কাল খুব একটা সফল ছিল না।
পরিসংখ্যানের চূড়ান্ত রায়: কে এগিয়ে?
যদি শুধুমাত্র আইসিসি ট্রফিকে সাফল্যের মাপকাঠি ধরা হয়, তবে মহেন্দ্র সিং ধোনি নিঃসন্দেহে সেরা। তার জেতা তিনটি ভিন্ন ধরনের আইসিসি ট্রফি তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, যদি জয়ের শতাংশ এবং ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে, তবে বিরাট কোহলি এগিয়ে থাকবেন। তার নেতৃত্বে ভারত যেভাবে দেশে ও বিদেশে দাপট দেখিয়েছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। আবার, রোহিত শর্মা দেখিয়েছেন কীভাবে কম সময়েও বড় টুর্নামেন্ট জেতা যায়। তার নেতৃত্বে ভারত দীর্ঘদিনের ট্রফির খরা কাটিয়েছে এবং সীমিত ওভারের ফরম্যাটে তার কৌশলগত বুদ্ধি তাকে অন্যতম সেরা প্রমাণ করেছে।
এক নজরে তিনজনের আন্তর্জাতিক অধিনায়কত্বের পরিসংখ্যান:
মহেন্দ্র সিং ধোনি: ৩৩২টি ম্যাচে ১৭৮টি জয় (জয় শতাংশ: ৫৩.৬১%), ৩টি আইসিসি ট্রফি।
বিরাট কোহলি: ২১৩টি ম্যাচে ১৩৫টি জয় (জয় শতাংশ: ৬৩.৩৮%), ০টি আইসিসি ট্রফি।
* রোহিত শর্মা: ১৪২টি ম্যাচে ১০৩টি জয় (জয় শতাংশ: প্রায় ৭৩%), ২টি আইসিসি ট্রফি।













