১. যখন ট্রফি খুঁজে বের করেছিল এক কুকুর
১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে, লন্ডন থেকে আসল জুলে রিমে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। পুরো লন্ডন পুলিশ যখন হন্যে হয়ে ট্রফিটি খুঁজছে, তখন এগিয়ে আসে ‘পিকেলস’ নামের একটি কুকুর। তার মালিক ডেভিড করবেটের
সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে সে একটি ঝোঁপের মধ্যে খবরের কাগজে মোড়ানো ট্রফিটি খুঁজে পায়। এই ঘটনার পর পিকেলস রাতারাতি জাতীয় বীরে পরিণত হয় এবং ইংল্যান্ড সে বছর বিশ্বকাপও জেতে।
২. গ্যারিঞ্চার মন জয় করা এক কুকুর
১৯৬২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও ইংল্যান্ড। ম্যাচের মাঝে একটি কুকুর মাঠে ঢুকে পড়ে। খেলোয়াড়রা তাকে ধরতে ব্যর্থ হলে, ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার জিমি গ্রিভস কুকুরটিকে ধরতে সক্ষম হন। কিন্তু কুকুরটি ভয়ে তার জার্সিতেই প্রস্রাব করে দেয়। এই ঘটনা দেখে ব্রাজিলের কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চা এতটাই মজা পেয়েছিলেন যে, তিনি কুকুরটিকে দত্তক নিয়ে ব্রাজিলে নিয়ে যান এবং তার নাম রাখেন ‘বাই’ (পর্তুগিজ ভাষায় ‘দুই’)।
৩. রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে দিলেন শেখ
১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে ফ্রান্স ও কুয়েতের ম্যাচে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ফ্রান্স ৩-১ গোলে এগিয়ে থাকার সময় একটি গোল করে। কিন্তু কুয়েতের খেলোয়াড়রা দাবি করেন যে, গ্যালারি থেকে আসা বাঁশির শব্দে তারা বিভ্রান্ত হয়ে থেমে গিয়েছিলেন। রেফারি Miroslav Stupar প্রথমে গোলটি দিলেও, কুয়েত ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি শেখ ফাহাদ আল-আহমাদ আল-সাবাহ মাঠের মধ্যে ঢুকে রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। অবিশ্বাস্যভাবে, রেফারি তার সিদ্ধান্ত বদলে গোলটি বাতিল করেন!
৪. অদ্ভুত এক ফ্রি-কিক
১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে জায়ার (বর্তমান কঙ্গো) ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলছিল। ম্যাচের এক পর্যায়ে ব্রাজিল একটি ফ্রি-কিক পায়। ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা কিক নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়, জায়ারের ডিফেন্ডার Mwepu Ilunga হঠাৎই ডিফেন্সিভ ওয়াল থেকে দৌড়ে এসে সজোরে বলে কিক মেরে দেন। প্রথমে সবাই ভেবেছিল এটা নিয়মের অজ্ঞতা, কিন্তু পরে জানা যায়, দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষের প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি ইচ্ছে করেই এমনটা করেছিলেন।
৫. সান্তিয়াগোর যুদ্ধ
১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে আয়োজক চিলি এবং ইতালির ম্যাচটি ‘ব্যাটল অফ সান্তিয়াগো’ বা ‘সান্তিয়াগোর যুদ্ধ’ নামে কুখ্যাত। ম্যাচ শুরুর মাত্র ১২ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম ফাউল হয়। এরপর পুরো ম্যাচ জুড়ে চলে ঘুষি, লাথি এবং হাতাহাতি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে, মাঠে পুলিশকে ৪ বার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। এই ম্যাচের পরেই ফুটবলে হলুদ এবং লাল কার্ডের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভূত হয়।
৬. রেফারির তিনটি হলুদ কার্ড
সাধারণত দুটি হলুদ কার্ডের পরেই একজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড় জোসিপ সিমুনিককে তিনটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন ইংলিশ রেফারি গ্রাহাম পোল। তিনি দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি দেওয়ার সময় ভুল করে অস্ট্রেলিয়ার একজন খেলোয়াড়ের নামে লিখেছিলেন। অবশেষে তৃতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পর তিনি সিমুনিককে মাঠ থেকে বের করে দেন। এই ভুলের পর পোল আন্তর্জাতিক রেফারিং থেকে অবসর নেন।
৭. সবচেয়ে কুখ্যাত ফাউল
১৯৮২ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানি ও ফ্রান্সের ম্যাচে ঘটে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা। ফরাসি খেলোয়াড় প্যাট্রিক ব্যাটিস্টন যখন গোলের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন জার্মান গোলকিপার হ্যারাল্ড শুমাখার তাকে रोकने জন্য সজোরে ধাক্কা মারেন। এই সংঘর্ষে ব্যাটিস্টনের দুটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি জ্ঞান হারান। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, রেফারি শুমাখারকে কোনো কার্ড তো দূরের কথা, ফাউল পর্যন্ত দেননি।
৮. রিভালদোর সেই অভিনয়
২০০২ বিশ্বকাপে তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন রিভালদো। কিন্তু তার একটি বিতর্কিত কাজের জন্য তিনি সমালোচিত হন। ম্যাচের শেষের দিকে তুরস্কের হাকান উনসাল সময় নষ্ট করার জন্য বল রিভালদোর পায়ে মারেন। কিন্তু রিভালদো এমনভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যেন বলটি তার মুখে লেগেছে। এই অভিনয়ের ফলে রেফারি হাকানকে লাল কার্ড দেখান। পরে ফিফা রিভালদোকে এই কাজের জন্য জরিমানা করে।
৯. এক আত্মঘাতী গোলের করুণ পরিণতি
১৯৯৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের এক আত্মঘাতী গোলের কারণে তার দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে যায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। দেশে ফেরার মাত্র ১০ দিন পর, মেডেলিনের এক নাইটক্লাবের বাইরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। যদিও হত্যার কারণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে অনেকেই মনে করেন এই আত্মঘাতী গোলই তার করুণ পরিণতির জন্য দায়ী ছিল।
১০. মারাকানার কান্না
১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল রাউন্ডের শেষ ম্যাচটি ছিল ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মধ্যে। প্রায় দুই লক্ষ দর্শকের সামনে নিজেদের ঘরের মাঠ মারাকানায় ব্রাজিলের শুধু একটি ড্র প্রয়োজন ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। সবাই যখন ব্রাজিলের জয় দেখার জন্য প্রস্তুত, তখন উরুগুয়ে ২-১ গোলে জিতে পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দেয়। এই ঘটনাটি ‘মারাকানাজো’ বা ‘মারাকানার আঘাত’ নামে পরিচিত, যা ব্রাজিলের ফুটবলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।












