৫. লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা)
বয়সকে সংখ্যায় পরিণত করে আরও একবার বিশ্বকে মুগ্ধ করলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার পথে তিনি ছিলেন দলের প্রাণকেন্দ্র। টুর্নামেন্টে ৮টি গোল করে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ায় শিরোপা অধরা থেকে যায়, কিন্তু তার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে 'সিলভার বল' পুরস্কার জেতেন। এই বিশ্বকাপে তার নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনাকে কঠিন পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করেছে।
৪. পাউ কুবার্সি (স্পেন)
বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক নতুন তারকার জন্ম হয়, আর ২০২৬ সালের আসরের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার নিঃসন্দেহে পাউ কুবার্সি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে স্পেনের রক্ষণভাগে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর। টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দিয়ে রেকর্ড সাতটি ম্যাচে কোনো গোল হজম না করার ক্ষেত্রে (ক্লিন শিট) তার অবদান ছিল অপরিসীম। তার পরিপক্বতা, ট্যাকলিং এবং খেলা বোঝার ক্ষমতা দেখে বিশেষজ্ঞরা তাকে ভবিষ্যতের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
৩. উনাই সিমন (স্পেন)
স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র একটি গোল হজম করেছেন এবং সাতটি ম্যাচে নিজের জাল অক্ষত রেখেছেন, যা এককথায় অবিশ্বাস্য। তার অসাধারণ গোলকিপিংয়ের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার 'গোল্ডেন গ্লাভ' জেতেন। বিশেষ করে নকআউট পর্বের কঠিন ম্যাচগুলোতে তার দুর্দান্ত সেভ স্পেনকে ফাইনালে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। প্রায় ৫৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডও গড়েন তিনি। ফাইনাল ম্যাচেও তার দৃঢ়তা আর্জেন্টাইন আক্রমণভাগকে হতাশ করেছে।
২. কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে না পারলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা ধরা হয়। এই বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার 'গোল্ডেন বুট' জিতেছেন। এর মাধ্যমে তিনি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জেতার অনন্য রেকর্ড গড়েন। শুধু তাই নয়, এই টুর্নামেন্টে করা গোলগুলোর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন, যেখানে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ২২। তার গতি, ড্রিবলিং এবং ফিনিশিং বিপক্ষ দলের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্ন।
১. রদ্রি (স্পেন)
২০২৬ বিশ্বকাপের অবিসংবাদিত সেরা খেলোয়াড় ছিলেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রিগো হার্নান্দেজ, যিনি রদ্রি নামেই পরিচিত। মাঝমাঠে তার নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স স্পেনকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে সাহায্য করেছে। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে তিনি দলের ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। পুরো টুর্নামেন্টে তার নিখুঁত পাসিং (৯৪% সফল পাস) এবং খেলা পরিচালনার দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার 'গোল্ডেন বল' জেতেন।










