সম্পদের পরিমাণ: বিলিয়নিয়ার ক্লাবে প্রবেশ
লিওনেল মেসির মোট সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও, সব সূত্রই একটি বিষয়ে একমত—তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ। ফোর্বসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মেসি বিলিয়নিয়ার
ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। তার আনুমানিক মোট সম্পদ প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এই বিশাল财富 শুধুমাত্র ফুটবল খেলে আসেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে সুচিন্তিত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং ব্র্যান্ড ইমেজ। মেসির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মোট সম্পদ প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে মেসি সামান্য পিছিয়ে থাকলেও এই দুই মহাতারকাই ক্রীড়া জগতের সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম।
ক্লাবের বেতন এবং অভিনব চুক্তি
মেসির আয়ের একটি বড় অংশ আসে ক্লাব থেকে পাওয়া বেতন এবং বিভিন্ন বোনাস থেকে। বার্সেলোনা ও পিএসজির মতো ক্লাবে বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে তার চুক্তিটি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মেসির নিশ্চিত পারিশ্রমিক প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। তবে এটি তার আয়ের কেবল একটি অংশ। ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার চুক্তিতে রয়েছে ক্লাবের শেয়ার বা মালিকানার অংশ পাওয়ার সুযোগ। পাশাপাশি, অ্যাপল টিভির সঙ্গে এমএলএস-এর সম্প্রচার চুক্তি থেকেও তিনি একটি নির্দিষ্ট অংশ পেয়ে থাকেন, যা থেকে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার আসে। এই অভিনব চুক্তি কাঠামোটিই তাকে যুক্তরাষ্ট্রের লিগে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট: আয়ের সিংহভাগ
অনেক বিশ্লেষকের মতে, মেসির আয়ের সবচেয়ে বড় অংশটি আসে মাঠের বাইরে থেকে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয়ের প্রায় অর্ধেকই আসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের সঙ্গে তার আজীবন চুক্তি, যা থেকে তিনি বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেন। এছাড়া পেপসিকো, হার্ড রক ক্যাফে, বাডওয়াইজার এবং রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের দূত হিসেবেও তিনি বিপুল অর্থ উপার্জন করেন। সম্প্রতি 'স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে' সিনেমার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে মাত্র ২০ সেকেন্ড উপস্থিতির জন্য তিনি প্রায় দেড় কোটি ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। এটি তার ব্র্যান্ড ভ্যালুর বিশালত্ব প্রমাণ করে।
মাঠের বাইরের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য
মেসি শুধু একজন খেলোয়াড় বা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নন, তিনি একজন বিচক্ষণ ব্যবসায়ীও। তার বিনিয়োগের পরিধি বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে অন্যতম হলো 'এমআইএম হোটেলস' (MiM Hotels) নামের একটি বিলাসবহুল হোটেল চেইন, যার শাখা স্পেন ও অ্যান্ডোরাতে রয়েছে। এছাড়া, রিয়াল এস্টেট খাতেও তার বড় বিনিয়োগ রয়েছে। বার্সেলোনা, মায়ামি এবং ইবিজায় তার ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের রিয়েল এস্টেট পোর্টফোলিও আছে। তিনি নিজের পোশাকের ব্র্যান্ড 'দ্য মেসি স্টোর' এবং 'মাস+ বাই মেসি' নামের একটি এনার্জি ড্রিংক ব্র্যান্ডেরও মালিক। এসব উদ্যোগ থেকে অর্জিত মুনাফা তার মোট সম্পদে প্রতিনিয়ত নতুন মাত্রা যোগ করছে।
বিলাসবহুল জীবন ও মানবসেবা
বিপুল সম্পদের মালিক মেসির জীবনযাপনেও রয়েছে বিলাসিতার ছোঁয়া। তার সংগ্রহে রয়েছে একটি ১৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ব্যক্তিগত গলফস্ট্রিম ভি জেট বিমান এবং পাগানি জোন্ডার মতো বিরল ও দামি গাড়ির সম্ভার। তবে এত সম্পদের মাঝেও তিনি সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা ভোলেননি। ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তার 'লিও মেসি ফাউন্ডেশন' সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। এছাড়া তিনি ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এভাবেই মেসি ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যের সঙ্গে ব্যবসায়িক বিচক্ষণতা ও মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।












