মুকুটমণিপুর: সবুজে মোড়া জলাধার
বাঁকুড়া জেলার কংসাবতী ও কুমারী নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত মুকুটমণিপুর বর্ষায় এক অপরূপ রূপ ধারণ করে। [17] এখানকার সুবিশাল মাটির বাঁধ ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম। [24] বর্ষার জলে যখন জলাধার কানায় কানায় পূর্ণ
থাকে, তখন তার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। [11] মেঘলা দিনে বোটিং এবং পার্সনাথ পাহাড়ে ট্রেকিং করার অভিজ্ঞতা আপনাকে মুগ্ধ করবে। [4]
পুরুলিয়া (অযোধ্যা পাহাড়): ঝরনার কলতান
বর্ষাকালে পুরুলিয়ার রুক্ষ লাল মাটির দেশ সবুজের চাদরে ঢেকে যায়। [9] অযোধ্যা পাহাড়ের চূড়া মেঘে ঢাকা থাকে এবং ছোট-বড় ঝরনাগুলো জলে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা এক মনোরম পরিবেশ তৈরি করে। [7, 12] বামনি ও টুর্গার মতো জলপ্রপাতগুলি এই সময়েই তাদের পূর্ণ রূপ ফিরে পায়। যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য বর্ষার অযোধ্যা পাহাড় ভ্রমণ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। [22]
শান্তিনিকেতন: ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতন বর্ষায় এক অন্য মাত্রা পায়। [5] বৃষ্টিতে ভেজা লাল মাটির রাস্তা, খোয়াইয়ের সবুজ বনানী এবং কোপাই নদীর শান্ত রূপ আপনাকে শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিয়ে যাবে। [9] সোনাঝুরি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটা বা স্থানীয় বাউলের গান শোনা আপনার ছুটিকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। [4]
মন্দারমণি: উত্তাল সমুদ্রের গর্জন
যারা বর্ষার উত্তাল সমুদ্র ভালোবাসেন, তাদের জন্য মন্দারমণি একটি আদর্শ গন্তব্য। [10] এই সময় সৈকতে পর্যটকদের ভিড় কম থাকে, তাই নির্জনতায় সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করা যায়। [5] সৈকতের ধারে রিসোর্টে বসে গরম গরম সামুদ্রিক মাছ ভাজা খেতে খেতে বৃষ্টিভেজা সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতা এককথায় অসাধারণ। [15]
ইটাচুনা রাজবাড়ি: ইতিহাসের মাঝে এক বর্ষাসন্ধ্যা
যদি বর্ষার দিনে রাজকীয় পরিবেশে ছুটি কাটাতে চান, তবে হুগলির ইটাচুনা রাজবাড়ি আপনার জন্য সেরা ঠিকানা। [26] স্থানীয়ভাবে 'বর্গীডাঙা' নামে পরিচিত এই হেরিটেজ হোটেলে থাকলে ইতিহাসের ছোঁয়া পাবেন। [31] পুরোনো স্থাপত্য, সুবিশাল দালান এবং বৃষ্টির দিনে রাজকীয় আপ্যায়ন আপনার উইকএন্ডকে বিশেষ করে তুলবে। [29]
ডুয়ার্স: বৃষ্টিভেজা অরণ্যের হাতছানি
বর্ষায় ডুয়ার্সের জঙ্গল এবং চা বাগান এক নতুন রূপে সেজে ওঠে। [6] চাপরামারি ও গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বৃষ্টিভেজা সবুজ আপনাকে মুগ্ধ করবে। [8] যদিও বর্ষায় সব জঙ্গল सफारी খোলা থাকে না, তবুও রিসোর্টে বসে জানলার বাইরে অঝোর ধারায় বৃষ্টি দেখা আর প্রকৃতির শব্দ শোনার অনুভূতিই আলাদা।
টাকি: ইছামতীর তীরে এক টুকরো রোমাঞ্চ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ইছামতীর তীরে অবস্থিত টাকি বর্ষার দিনে এক অসাধারণ রূপ নেয়। [28] নদীতে নৌকাবিহার করার সময় ওপারে বাংলাদেশকে দেখা যায়। বর্ষাকালে গোলপাতার জঙ্গল আরও সবুজ ও ঘন হয়ে ওঠে। [28] তাছাড়া, এই সময়ে টাকিতে ইলিশ মাছের বিভিন্ন পদ চেখে দেখার সুযোগও পাওয়া যায়।
হেনরি আইল্যান্ড: নির্জন ম্যানগ্রোভের মাঝে
কলকাতার কাছে বকখালির পাশে অবস্থিত হেনরি আইল্যান্ড একটি শান্ত ও নির্জন দ্বীপ। [21] এখানকার ওয়াচ টাওয়ার থেকে একদিকে ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং অন্যদিকে বিস্তৃত সমুদ্র দেখা যায়। বর্ষায় এখানকার সৈকতে লাল কাঁকড়ার ভিড় বেড়ে যায়, যা দেখতে অনেকটা লাল গালিচার মতো মনে হয়। [13, 21] যারা প্রকৃতি এবং নির্জনতা ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ জায়গা।
ঝাড়গ্রাম: শাল-পিয়ালের অরণ্যে
ঝাড়গ্রামের শাল-পিয়ালের জঙ্গল বর্ষায় আরও গভীর এবং রহস্যময় হয়ে ওঠে। [9] বৃষ্টিস্নাত জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ। [13] এখানে ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, কনকদুর্গা মন্দির এবং চিল্কিগড়ের জঙ্গল ঘুরে দেখতে পারেন। বেলপাহাড়ির কাছে কেটকি ঝরনাও এই সময় জলে পরিপূর্ণ থাকে। [13]
দার্জিলিং: মেঘেদের লুকোচুরি
বর্ষার দার্জিলিং অন্য সব সময়ের চেয়ে আলাদা। এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় কম থাকে এবং গোটা শহর মেঘের চাদরে ঢাকা পড়ে। [20] বৃষ্টিতে ভেজা চা-বাগান, ম্যালের রাস্তায় কুয়াশার মধ্যে হাঁটা এবং ক্যাফেতে বসে গরম কফি উপভোগ করার মজাই আলাদা। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও, মেঘ-বৃষ্টির এই লুকোচুরি খেলা দার্জিলিংকে আরও বেশি রোম্যান্টিক করে তোলে।











