কীভাবে পৌঁছবেন মন্দারমণি?
কলকাতা থেকে মন্দারমণি যাওয়ার একাধিক উপায় রয়েছে। সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হলো বাস। ধর্মতলা বা করুণাময়ী থেকে অনেক সরকারি ও বেসরকারি বাস ছাড়ে। ভাড়া নন-এসি বাসের জন্য প্রায় ১৫০-২০০ টাকা এবং এসি বাসের জন্য ৩৫০-৫০০
টাকার মতো। বাস আপনাকে নামিয়ে দেবে চাউলখোলা বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটো বা টোটো ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় মন্দারমণির হোটেলে। অটোতে জনপ্রতি প্রায় ৩০-৪০ টাকা লাগতে পারে। এছাড়া ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে কাঁথি (Contai) বা দীঘাগামী যেকোনো ট্রেনে উঠে পড়তে পারেন। কাঁথি স্টেশন থেকে মন্দারমণির দূরত্ব কম। স্টেশন থেকে হোটেল পর্যন্ত গাড়ি বা অটো ভাড়া করতে হবে। এতে সময় এবং খরচ দুই-ই বাসের থেকে কিছুটা বেশি হতে পারে।
থাকার জায়গা ও তার খরচ
মন্দারমণিতে সব ধরনের বাজেটের হোটেল ও রিসর্ট পাওয়া যায়। একেবারে কম খরচে থাকতে চাইলে ১০০০-১৫০০ টাকার মধ্যে নন-এসি রুম পেয়ে যাবেন। তবে সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনে গেলে ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে। একটু ভালো মানের এসি রুমের জন্য প্রতি রাতের খরচ পড়তে পারে ২০০০-৩০০০ টাকা। অনেক হোটেলে আবার সুইমিং পুলের সুবিধাও থাকে। খরচ কমাতে চাইলে অফ-সিজনে (বর্ষাকালে) যেতে পারেন, তখন হোটেলের ভাড়ায় আকর্ষণীয় ছাড় পাওয়া যায়। একেবারে সমুদ্রের কাছাকাছি হোটেলের চেয়ে কিছুটা ভেতরের দিকের হোটেল বা দাদনপাত্র অঞ্চলের রিসর্টগুলোর ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম হয়। আগে থেকে অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে হোটেল বুক করে গেলে শেষ মুহূর্তের ঝামেলা এড়ানো যায়।
খাওয়া-দাওয়ার বাজেট
ভ্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো খাওয়া-দাওয়া। মন্দারমণিতে এর জন্য রয়েছে প্রচুর বিকল্প। হোটেলের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় খেলে খরচ কিছুটা বেশি পড়তে পারে। তবে কম খরচে পেট ভরাতে চাইলে বিচের ধারে থাকা ছোট ছোট খাবারের দোকান বা 'পিসির হোটেল' গুলো সেরা। এখানে আপনি মাছ, ভাত, ডাল, সবজি দিয়ে ভরপেট থালি পেয়ে যাবেন ১৫০-২৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া, সন্ধ্যায় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ ভাজা চেখে দেখতে পারেন, যা এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। দু'দিনের জন্য জনপ্রতি খাওয়া-দাওয়ার খরচ ১০০০-১২০০ টাকার মধ্যে সহজেই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব।
কী কী দেখবেন ও করবেন?
মন্দারমণির মূল আকর্ষণ তার ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মসৃণ সমুদ্র সৈকত, যা ভারতের দীর্ঘতম ড্রাইভেবল বিচগুলির মধ্যে অন্যতম। সকালে সূর্যোদয় এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। সৈকতে লাল কাঁকড়া ঘুরে বেড়ানো এক দারুণ দৃশ্য। কিছুটা দূরেই রয়েছে মোহনা, যেখানে নদী এসে সমুদ্রে মিশেছে। অটো ভাড়া করে সহজেই ঘুরে আসা যায় মোহনা এবং তাজপুর বিচ থেকে। যারা অ্যাডভেঞ্চার ভালোবাসেন, তাদের জন্য রয়েছে জেট স্কি, ব্যানানা বোট রাইড, প্যারা সেলিং-এর মতো বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা। তবে এই সবকিছুর জন্য আলাদা খরচ করতে হবে।
দু'দিনের একটি সম্ভাব্য বাজেট (জনপ্রতি)
আসুন দেখে নেওয়া যাক, সপ্তাহান্তে একজনের মন্দারমণি ঘুরতে মোট কত খরচ হতে পারে: * **যাতায়াত:** কলকাতা থেকে বাস ও স্থানীয় অটো মিলিয়ে যাওয়া-আসা বাবদ প্রায় ৪০০-৮০০ টাকা। * **থাকা:** দু'জন একটি রুমে থাকলে এক রাতের জন্য জনপ্রতি খরচ হতে পারে প্রায় ৭০০-১২০০ টাকা। * **খাওয়া-দাওয়া:** দু'দিনের জন্য জনপ্রতি প্রায় ১০০০-১২০০ টাকা। * **অন্যান্য খরচ:** কিছু সাইটসিয়িং বা টুকটাক কেনাকাটার জন্য আরও ৩০০-৫০০ টাকা ধরে রাখা যেতে পারে। সুতরাং, সবকিছু মিলিয়ে জনপ্রতি প্রায় ২৫০০-৩০০০ টাকার বাজেটে সপ্তাহান্তে মন্দারমণি থেকে ভালোভাবে ঘুরে আসা সম্ভব। পরিকল্পনা করে চললে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ালে এই বাজেট আরও কিছুটা কমিয়ে আনা যেতে পারে।












