১. গবেষণা না করে বিনিয়োগ করা
অনেকেই বন্ধু, আত্মীয় বা সোশ্যাল মিডিয়ার কথায় প্রভাবিত হয়ে কোনওরকম গবেষণা ছাড়াই ফান্ডে বিনিয়োগ করে ফেলেন। এটি সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটি মিউচুয়াল ফান্ডের নিজস্ব উদ্দেশ্য, বিনিয়োগ কৌশল
এবং ঝুঁকির মাত্রা থাকে। যেমন, সব ফান্ড সব ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার আর্থিক লক্ষ্য, সময়সীমা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী ফান্ড বেছে নেওয়া উচিত। বিনিয়োগের আগে ফান্ডের অতীত পারফরম্যান্স, ফান্ড ম্যানেজারের অভিজ্ঞতা, এক্সপেন্স রেশিও এবং পোর্টফোলিওর মতো বিষয়গুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যের দেখাদেখি বিনিয়োগ করলে আপনার আর্থিক লক্ষ্যের সঙ্গে সেই ফান্ডের কোনও মিল না থাকার সম্ভাবনাই বেশি, যার ফলে লোকসান হতে পারে।
২. শুধুমাত্র অতীতের রিটার্ন দেখে সিদ্ধান্ত
একটি ফান্ড অতীতে ভালো রিটার্ন দিয়েছে মানেই ভবিষ্যতেও দেবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। অনেক নতুন বিনিয়োগকারী এই ভুলটা করে থাকেন। তারা বিগত এক বছরের সেরা পারফর্মার ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, কিন্তু বাজারের চক্র পরিবর্তন হলে সেই ফান্ড খারাপ পারফর্ম করতে পারে। একে 'মিন রিভার্সন' বলা হয়, যেখানে অতিরিক্ত ভালো পারফর্ম করা স্টক বা সেক্টর পরবর্তীকালে গড় পারফরম্যান্সের দিকে ফিরে আসে। তাই শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী বা এক বছরের রিটার্ন না দেখে, অন্তত পাঁচ থেকে সাত বছরের পারফরম্যান্স দেখা উচিত। বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতে (যেমন, तेजी ও মন্দা) ফান্ডটি কেমন পারফর্ম করেছে, তা বিশ্লেষণ করা একটি স্থিতিশীল ফান্ড খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
৩. পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই না করা
‘সব ডিম এক ঝুড়িতে না রাখা’—এই প্রবাদটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই তাদের সমস্ত টাকা একটি বা একই ধরনের ফান্ডে বিনিয়োগ করে ফেলেন। এর ফলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। যদি কোনও কারণে সেই συγκεκρι ফান্ড বা সেক্টর খারাপ পারফর্ম করে, তাহলে আপনার পুরো বিনিয়োগেই তার প্রভাব পড়বে। পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই বা বৈচিত্র্যময় করার অর্থ হলো আপনার বিনিয়োগ বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাস (যেমন ইক্যুইটি, ডেট) এবং বিভিন্ন ধরনের ফান্ডের (লার্জ-ক্যাপ, মিড-ক্যাপ, স্মল-ক্যাপ) মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে একটি সেক্টর খারাপ ফল করলেও অন্য সেক্টরের ভালো পারফরম্যান্স আপনার পোর্টফোলিওকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক ঝুঁকি কমে।
৪. আবেগের বশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া
শেয়ার বাজারের পতন দেখলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে তাদের বিনিয়োগ বা SIP বন্ধ করে দেন বা ফান্ড বিক্রি করে দেন। এটি একটি বড় ভুল যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ তৈরির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মনে রাখতে হবে, মিউচুয়াল ফান্ড, বিশেষ করে ইক্যুইটি ফান্ড, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। বাজারের পতন হলে কম দামে বেশি ইউনিট কেনার সুযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে আপনার গড় ক্রয়মূল্য কমিয়ে দেয় এবং লাভ বাড়াতে সাহায্য করে। একইভাবে, বাজার খুব ভালো ফল করলে অতিরিক্ত লোভে পড়ে হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়াও উচিত নয়। আবেগের পরিবর্তে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করা এবং নিজের লক্ষ্যের ওপর স্থির থাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
৫. নিয়মিত পোর্টফোলিও পর্যালোচনা না করা
বিনিয়োগ করা একটি এককালীন কাজ নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেকেই একবার বিনিয়োগ করার পর আর সেদিকে ফিরে তাকান না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার আর্থিক পরিস্থিতি, লক্ষ্য এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে। আবার, বাজারের পরিবর্তনের কারণে আপনার নির্বাচিত ফান্ডটি হয়তো আর আপনার জন্য উপযুক্ত নাও থাকতে পারে। তাই বছরে অন্তত একবার বা প্রতি ছয় মাসে আপনার পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করা উচিত। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে আপনি দেখতে পারবেন আপনার ফান্ডগুলো লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আছে কিনা, তাদের পারফরম্যান্স কেমন এবং প্রয়োজনে পোর্টফোলিওতে কোনও পরিবর্তন বা রিব্যালেন্সিং দরকার কিনা। এটি আপনাকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করবে।













