১. নতুন ও পুরনো কর ব্যবস্থার তুলনা করুন
ট্যাক্স প্ল্যানিংয়ের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো আপনার জন্য কোন কর ব্যবস্থাটি বেশি লাভজনক, তা নির্ধারণ করা। সরকার নতুন কর ব্যবস্থাকে (New Tax Regime) এখন ডিফল্ট বিকল্প হিসেবে রেখেছে। এর অধীনে
করের হার কম, কিন্তু বেশিরভাগ ছাড় (যেমন ৮০সি, ৮০ডি, এইচআরএ) পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, পুরনো কর ব্যবস্থায় (Old Tax Regime) করের হার বেশি হলেও বিভিন্ন ধারায় বিনিয়োগ ও খরচের উপর বড় অঙ্কের ছাড় মেলে। আপনার বেতন, ভাড়ার পরিমাণ, এবং বিনিয়োগের ধরনের উপর ভিত্তি করে একটি অনলাইন ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে সহজেই তুলনা করে নিন। যদি আপনার হোম লোন, জীবন বিমা, বা স্বাস্থ্য বিমার প্রিমিয়াম বেশি হয়, তবে পুরনো ব্যবস্থা আপনার জন্য লাভজনক হতে পারে। অন্যথায়, নতুন ব্যবস্থায় কম কর দিয়ে বেশি টাকা হাতে রাখতে পারবেন।
২. নতুন ব্যবস্থাতেও যে ছাড়গুলি পাওয়া যায়
অনেকের ধারণা, নতুন কর ব্যবস্থায় কোনও ছাড়ই নেই। এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক নয়। যদিও ৮০সি-এর মতো জনপ্রিয় ছাড়গুলি এখানে নেই, তবুও কিছু সুবিধা আপনি নিতে পারেন। প্রথমত, বেতনভোগী কর্মচারীদের জন্য ৫০,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন (Standard Deduction) নতুন ব্যবস্থাতেও বহাল রাখা হয়েছে। এটি আপনার করযোগ্য আয় সরাসরি কমিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, আপনার সংস্থা যদি আপনার হয়ে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে (NPS) টাকা জমা দেয় (বেসিক স্যালারির ১০% পর্যন্ত), তবে ধারা 80CCD(2) অনুযায়ী সেই টাকার উপর আপনি কর ছাড় পাবেন। এছাড়াও, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবহণ ভাতা (Transport Allowance) এবং অফিসিয়াল ট্যুরের খরচ বাবদ প্রাপ্ত অর্থও করমুক্ত থাকে।
৩. হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) বুদ্ধি করে ব্যবহার করুন
আপনি যদি ভাড়া বাড়িতে থাকেন এবং আপনার বেতনের একটি অংশ হিসেবে হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স (HRA) পান, তবে পুরনো কর ব্যবস্থা আপনার জন্য সোনায় সোহাগা হতে পারে। মেট্রো শহরে বসবাস করলে এবং ভাড়ার পরিমাণ বেশি হলে HRA বাবদ বড় অঙ্কের কর ছাড় পাওয়া সম্ভব। নতুন কর ব্যবস্থায় এই সুবিধাটি একেবারেই নেই। তাই, ট্যাক্স প্ল্যানিংয়ের সময় অবশ্যই حساب করুন HRA থেকে আপনি কতটা ছাড় পাচ্ছেন। যদি এই ছাড়ের পরিমাণ নতুন ব্যবস্থার কম কর হারের সুবিধার চেয়ে বেশি হয়, তবে পুরনো ব্যবস্থা বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এর জন্য আপনাকে সময়মতো আপনার সংস্থার কাছে ভাড়ার রসিদ জমা দিতে হবে।
৪. শুধু কর বাঁচাতে বিনিয়োগ নয়
একটা সময় ছিল যখন বহু মানুষ শুধুমাত্র ৮০সি ধারায় দেড় লক্ষ টাকার ছাড় পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে বছরের শেষে এমন কিছু স্কিমে বিনিয়োগ করতেন, যা তাদের আর্থিক লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নতুন কর ব্যবস্থা এই অভ্যাস বদলানোর একটা সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু এখানে বিনিয়োগ-ভিত্তিক ছাড় নেই, তাই আপনি এখন শুধুমাত্র কর বাঁচানোর চাপ থেকে মুক্ত হয়ে আপনার আসল আর্থিক লক্ষ্যের (যেমন, অবসরের জন্য সঞ্চয়, সন্তানের পড়াশোনা, বা বাড়ি কেনা) উপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও সময়সীমা অনুযায়ী সঠিক ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড বা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ করুন। মনে রাখবেন, কর বাঁচানোটা লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সম্পদ বৃদ্ধি করা।
৫. সময়মতো আপনার সংস্থাকে জানান
বছরের শুরুতে প্রতিটি সংস্থাই তাদের কর্মচারীদের থেকে জানতে চায় তারা কোন কর ব্যবস্থা বেছে নিতে চান। এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত জরুরি কারণ এর ভিত্তিতেই আপনার মাসিক বেতন থেকে টিডিএস (TDS) কাটা হবে। আপনি যদি ভুল ব্যবস্থা বেছে নেন বা কিছুই না জানান, তাহলে সংস্থা ডিফল্ট হিসেবে নতুন কর ব্যবস্থা অনুযায়ী টিডিএস কাটবে। এতে আপনার হাতে আসা মাসিক বেতন কমে বা বেড়ে যেতে পারে। তাই, শুরুতেই নিজের আয় ও বিনিয়োগের একটি আনুমানিক হিসাব করে সঠিক ব্যবস্থাটি বেছে নিন এবং আপনার এইচআর বা ফিনান্স বিভাগকে সময়মতো জানিয়ে দিন। যদিও আপনি আয়কর রিটার্ন ফাইল করার সময় চূড়ান্তভাবে ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারবেন, কিন্তু আগে থেকে পরিকল্পনা করলে মাসিক আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।











