ফুচকা বা পানিপুরি
বর্ষাকালে স্ট্রিট ফুডের তালিকায় ফুচকা বা পানিপুরি অনেকেরই প্রথম পছন্দ। কিন্তু এই ফুচকার টক জলই হতে পারে রোগের উৎস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই জল ফিল্টার করা থাকে না এবং খোলা পাত্রে রাখা হয়, যার ফলে এতে সহজেই
ই. কোলাই-এর মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এর থেকে ডায়রিয়া, কলেরা এবং টাইফয়েডের মতো গুরুতর রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই বর্ষার দিনগুলিতে বাইরের ফুচকা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।
রাস্তায় কাটা ফল ও সালাদ
রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া কাটা ফল বা সালাদ দেখতে খুব স্বাস্থ্যকর মনে হলেও বর্ষাকালে এগুলি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘক্ষণ খোলা হাওয়ায় থাকার ফলে এই ফলগুলিতে মাছি এবং অন্যান্য পোকামাকড় বসে, যা রোগজীবাণু ছড়ায়। বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এই কাটা ফলের উপর ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এই ধরনের ফল খেলে টাইফয়েডের মতো সংক্রমণ হতে পারে। তাই এই সময়ে ফল খেতে হলে, বাড়ি এনে ভালো করে ধুয়ে তারপর কেটে খাওয়াই নিরাপদ।
ভাজাভুজি ও পকোড়া
বৃষ্টির দিনে গরম গরম পকোড়া বা অন্যান্য ভাজাভুজি খেতে কে না ভালোবাসে! কিন্তু রাস্তার ধারে যে তেলে এগুলি ভাজা হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই একাধিকবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বারবার ব্যবহৃত তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এতে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও, ভাজার জন্য তৈরি করে রাখা বেসন বা ময়দার মিশ্রণটিও দীর্ঘক্ষণ ধরে বাইরে রাখা হয়, যা বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় সহজেই সংক্রমিত হতে পারে এবং পেটের গণ্ডগোল বা ফুড পয়জনিং-এর কারণ হতে পারে।
ফলের রস, শরবত ও লস্যি
রাস্তার ধারের ফলের রস বা শরবত গরমকালে স্বস্তি দিলেও বর্ষায় এগুলি এড়িয়ে চলাই ভালো। এই পানীয়গুলি বানানোর জন্য যে জল ও বরফ ব্যবহার করা হয়, তার উৎস বেশিরভাগ সময়ই নিরাপদ হয় না। দূষিত জল ও বরফের মাধ্যমে টাইফয়েড, কলেরা এবং হেপাটাইটিস এ-র মতো জলবাহিত রোগের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া, দই দিয়ে তৈরি লস্যি বা অন্যান্য পানীয় এই আর্দ্র আবহাওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে, যা খেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়।
চাট ও দইবড়া
দই-আলু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের চাট, যেমন দইবড়া বা আলুর চাট, বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই খাবারগুলিতে ব্যবহৃত টক দই, চাটনি এবং সেদ্ধ আলু যদি দীর্ঘক্ষণ ধরে খোলা পরিবেশে রাখা হয়, তাহলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে, বর্ষার স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় দই খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায় এবং পেটের সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সেদ্ধ করা আলু বা ছোলার মতো উপকরণেও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ফুড পয়জনিং-এর কারণ হয়।
চাইনিজ ও সি-ফুড
রাস্তার মোড়ে বিক্রি হওয়া চাউমিন, মোমো বা অন্যান্য চাইনিজ খাবারে ব্যবহৃত সস এবং কাঁচা সবজি, যেমন বাঁধাকপি, বর্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই সবজিগুলি ঠিকমতো ধোয়া না হলে তাতে কৃমির ডিম বা লার্ভা থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক। অন্যদিকে, বর্ষাকাল মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর প্রজননের সময়। এই সময়ে সি-ফুড দ্রুত সংক্রমিত ও নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ধরনের খাবার থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।












