ব্র্যান্ড ভ্যালু: নামের জোরেই আয়
মেসি ও রোনাল্ডো শুধু ফুটবলার নন, তারা একেকজন গ্লোবাল ব্র্যান্ড। রোনাল্ডোর 'CR7' এবং মেসির 'Messi' ব্র্যান্ড দুটি বিশ্বজুড়ে এতটাই পরিচিত যে, খেলা ছাড়ার পরেও এর জনপ্রিয়তা কমবে না। তাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে
থাকা ব্র্যান্ডগুলো থেকে আয় আসতেই থাকবে। রোনাল্ডোর নাইকির (Nike) সঙ্গে এবং মেসির অ্যাডিডাসের (Adidas) সঙ্গে আজীবন চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তিগুলো নিশ্চিত করে যে, তারা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন এই দুটি বড় কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকা পেতে থাকবেন। এছাড়াও পেপসিকো, হার্ড রক ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাপল টিভির মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে তাদের চুক্তি রয়েছে, যা অবসরের পরেও আয়ের পথ খোলা রাখবে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ব্যবসা সাম্রাজ্য
রোনাল্ডো তার 'CR7' ব্র্যান্ডকে কেন্দ্র করে এক বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। পোশাক, জুতো, পারফিউম থেকে শুরু করে বিভিন্ন লাইফস্টাইল পণ্য রয়েছে এই ব্র্যান্ডের অধীনে। পেস্তানা হোটেল গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'পেস্তানা সিআর৭' (Pestana CR7) নামে একটি বিলাসবহুল হোটেল চেন পরিচালনা করেন, যার শাখা লিসবন, মাদ্রিদ ও নিউইয়র্কের মতো বড় শহরে রয়েছে। এছাড়াও, তিনি 'সিআর৭ ক্রাঞ্চ ফিটনেস' নামে জিম চেন এবং ' ইন্সপারিয়া' (Insparya) নামে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ক্লিনিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। তার এই বহুমুখী বিনিয়োগ নিশ্চিত করে যে, ফুটবলের বাইরেও তার আয়ের উৎসগুলো সচল থাকবে।
লিওনেল মেসির বিনিয়োগের জগৎ
অন্যদিকে, লিওনেল মেসিও তার ব্যবসায়িক পোর্টফোলিও বেশ গুছিয়ে তৈরি করেছেন। তিনিও হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন এবং 'এমআইএম হোটেলস' (MiM Hotels) নামে তার একটি হোটেল চেন রয়েছে। এই হোটেলগুলো পরিচালনা করে ম্যাজেস্টিক হোটেল গ্রুপ। ২০১৯ সালে তিনি 'দ্য মেসি স্টোর' নামে নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড চালু করেন। সম্প্রতি, তিনি 'মাস+' (Más+) নামে একটি হাইড্রেশন ড্রিংকস ব্র্যান্ড চালু করেছেন। এছাড়াও, মেসি 'প্লে টাইম' (Play Time) নামে একটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্মের মাধ্যমে প্রযুক্তি এবং ক্রীড়া-সম্পর্কিত স্টার্টআপে বিনিয়োগ করছেন। তার ইন্টার মায়ামি ক্লাবের চুক্তিতে অবসরের পর ক্লাবের মালিকানার অংশ কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে, যা এক দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা।
রিয়েল এস্টেট ও অন্যান্য বিনিয়োগ
দুই তারকাই রিয়েল এস্টেটে প্রচুর বিনিয়োগ করেছেন। তাদের দুজনেরই বিশ্বের বিভিন্ন দামী শহরে বিলাসবহুল বাড়ি এবং সম্পত্তি রয়েছে। রোনাল্ডোর মাদ্রিদ, লিসবন এবং দুবাইতে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। অন্যদিকে, মেসির মায়ামি, ইবিজা এবং বার্সেলোনায় প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট সম্পদ আছে। এই সম্পত্তিগুলো শুধু বসবাসের জন্যই নয়, এগুলো থেকে ভাড়ার মাধ্যমেও মোটা অঙ্কের আয় হয়। এটি এক ধরনের প্যাসিভ ইনকাম, যা তাদের অবসরের পরের জীবনকে আর্থিকভাবে আরও সুরক্ষিত করে তুলবে।
ফুটবলের সঙ্গেই ভবিষ্যৎ
ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ফুটবলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। খেলা ছাড়ার পর কোচিং, ক্লাবের অ্যাম্বাসেডর, ফুটবল বিশেষজ্ঞ হিসেবে টেলিভিশন শো-তে অংশ নেওয়া বা এমনকি ক্লাব মালিকানার মতো বিভিন্ন ভূমিকায় তাদের দেখা যেতে পারে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের আয়ের সুযোগ রয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে ফুটবল বিশ্ব তাদের অবসরের পরেও আপন করে রাখতে চাইবে। এই भूमिकाগুলো তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালুকে বাঁচিয়ে রাখবে এবং নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে।











