সাম্প্রতিকতম ধাক্কা: আর্জেন্টিনা বনাম সৌদি আরব (২০২২)
কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ম্যাচের শুরুতে লিওনেল মেসির গোলে এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে
বদলে যায় পুরো চিত্র। সালেহ আল-শেহরি এবং সালেম আল-দাওসারির গোলে সৌদি আরব ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। এই ফলাফলকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় বিশ্বকাপ অঘটন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই খাদের কিনারে দাঁড় করিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়, কিন্তু এই হার বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
ঘাসের উপর অলৌকিক ঘটনা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বনাম ইংল্যান্ড (১৯৫০)
ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অঘটন হিসেবে পরিচিত এই ম্যাচটি. ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ছিল 'কিং অফ ফুটবল' বা ফুটবলের রাজা। অন্যদিকে, মার্কিন দলটি ছিল মূলত শৌখিন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন শববাহী গাড়ির চালক এবং আরেকজন ডিশওয়াশার. ইংল্যান্ডের জয়ের পক্ষে বাজি ছিল ৫০০-১. কিন্তু ব্রাজিলের বেলো হরিজন্তের মাঠে জো গায়েটজেন্সের একমাত্র গোলে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ব্যবধানে জয় পায়. এই অবিশ্বাস্য ফলাফল এতটাই অপ্রত্যাশিত ছিল যে, কিছু ব্রিটিশ সংবাদপত্র ভুল করে খবর छाপে যে ইংল্যান্ড ১০-১ গোলে জিতেছে, কারণ তারা ভেবেছিল মূল স্কোরটি নিশ্চয়ই কোনো টাইপিং ভুল.
ছোট দেশের বড় কীর্তি: উত্তর কোরিয়া বনাম ইতালি (১৯৬৬)
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি দল। অন্যদিকে, ইতালি ছিল দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং সেবারেরও অন্যতম ফেভারিট. গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইতালির শুধু একটি ড্র প্রয়োজন ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাক দু-ইকের গোলে উত্তর কোরিয়া ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে. এই জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো এশিয়ার কোনো দল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে এবং ইতালিকে খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়. এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে 'ডেভিড বনাম গোলিয়াথ'-এর লড়াইয়ের অন্যতম সেরা উদাহরণ হয়ে রয়েছে.
আফ্রিকার সিংহের গর্জন: ক্যামেরুন বনাম আর্জেন্টিনা (১৯৯০)
১৯৯০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন। দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ছিল অপ্রতিরোধ্য, আর ক্যামেরুন ছিল অনেকটাই অজানা শক্তি। ম্যাচের আগে প্রায় সবাই ধরে নিয়েছিল আর্জেন্টিনা সহজেই জিতবে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে অন্য ছবি দেখা গেল। ৯ জনের ক্যামেরুন দল ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িকের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেয়। এই জয় শুধু একটি অঘটন ছিল না, এটি ছিল বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকার উত্থানের এক জোরালো ঘোষণা.
চ্যাম্পিয়নদের পতন: সেনেগাল বনাম ফ্রান্স (২০০২)
১৯৯০ সালের মতো ২০০২ বিশ্বকাপেরও উদ্বোধনী ম্যাচে ঘটেছিল বড় অঘটন। ১৯৯৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ছিল সে সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। জিদান, অঁরি, থুরামের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া দলটির সামনে ছিল বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে আসা সেনেগাল। কিন্তু খেলার ৩০ মিনিটেই পাপা বুবা দিওপের গোলে এগিয়ে যায় সেনেগাল এবং শেষ পর্যন্ত সেই লিড ধরে রেখে ১-০ গোলে ম্যাচ জেতে. এই হার ফ্রান্সের জন্য এতটাই ধাক্কার ছিল যে, তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়.
সর্বকালের সেরা অঘটন: পশ্চিম জার্মানি বনাম হাঙ্গেরি (১৯৫৪)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অঘটন হিসেবে বিবেচনা করা হয় ১৯৫৪ সালের ফাইনালকে, যা 'বার্নের অলৌকিক ঘটনা' নামে পরিচিত. ফেরেঙ্ক পুসকাসের নেতৃত্বে হাঙ্গেরির 'ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্স' দলটি তখন ছিল প্রায় অপরাজেয়. টানা ৩১টি ম্যাচে অপরাজিত থেকে তারা ফাইনালে ওঠে এবং গ্রুপ পর্বে এই পশ্চিম জার্মানিকেই ৮-৩ গোলে হারিয়েছিল. ফাইনালে মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়েও যায় হাঙ্গেরি. কিন্তু এরপর যা ঘটেছিল তা ছিল অবিশ্বাস্য। পশ্চিম জার্মানি ঘুরে দাঁড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নেয়, যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তন এবং অঘটন. একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে এমন ফলাফল হওয়ায় এটি অন্য সব অঘটনকে ছাপিয়ে যায়.



