ফাইনালের মঞ্চে স্পেনের圧倒কারী আধিপত্য
গোল্ডেন বল কে জিতবেন, তার অনেকটাই নির্ভর করে ফাইনালের পারফরম্যান্সের ওপর। আর এই একটি জায়গায় মেসি এবং আর্জেন্টিনা দুটিই ম্লান হয়ে গিয়েছিল স্পেনের সামনে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জয় পায়।
পুরো ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগ মেসিকে প্রায় নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালের প্রথম ১১৭ মিনিট আর্জেন্টিনা স্পেনের গোলে একটিও শট নিতে পারেনি। স্প্যানিশ মাঝমাঠের অসাধারণ নিয়ন্ত্রণের সামনে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ অসহায় আত্মসমর্পণ করে। এই ম্যাচে স্পেনের নিরঙ্কুশ আধিপত্যই মেসিকে গোল্ডেন বলের দৌড় থেকে ছিটকে দেওয়ার একটি বড় কারণ। যেখানে একজন খেলোয়াড় ফাইনালে নিজের প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন, সেখানে নির্বাচকদের নজর স্বাভাবিকভাবেই প্রতিপক্ষের দিকে যায়।
রড্রি: মাঝমাঠের জেনারেল এবং টুর্নামেন্টের সেরা
লিওনেল মেসি গোল্ডেন বল না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলেন স্পেনের মিডফিল্ডার রড্রি। ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা শুধু ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন না, পুরো টুর্নামেন্টেই স্পেনের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন তিনি। স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হয়, যা একটি রেকর্ড। এই অবিশ্বাস্য রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সের পেছনে রড্রির ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তিনি মাঝমাঠ থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করেছেন এবং দলের আক্রমণের সূচনা করেছেন। একজন খেলোয়াড় যখন শিরোপা জয়ী দলের ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করেন এবং টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার হন, তখন গোল্ডেন বলের জন্য তার দাবিই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। মেসি দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড় হিসেবে সিলভার বল জিতেছেন, যা রড্রির শ্রেষ্ঠত্বকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
মেসির অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান সত্ত্বেও…
এটা বললে ভুল হবে যে মেসির টুর্নামেন্ট খারাপ কেটেছে। বরং, ৩৯ বছর বয়সে তিনি যা করেছেন তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন। এই টুর্নামেন্টে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন এবং প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল পর্যন্ত আসার পথে মেসির অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের দুটি অ্যাসিস্টে দলকে ফাইনালে তোলেন তিনিই। কিন্তু ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান যতই উজ্জ্বল হোক না কেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়টাই সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয়।
শিরোপা জয়ী দলের খেলোয়াড়ের অগ্রাধিকার
ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, ফিফা গোল্ডেন বল দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়শই চ্যাম্পিয়ন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়কে বেছে নেয়। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৪-এ রোমারিও, ১৯৯৮-এ জিদান বা ২০০২-এ অলিভার কানের কথা বলা যায়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, যেমন ২০১৪ সালে মেসি পরাজিত দলের সদস্য হয়েও গোল্ডেন বল জিতেছিলেন। কিন্তু সেবার জার্মানির কোনো একক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স সেরার দাবিদার হওয়ার মতো ছিল না। এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। স্পেন দলগতভাবে অসাধারণ খেলেছে এবং সেই দলের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন রড্রি। তাই ফাইনালে হেরে যাওয়া দলের একজন খেলোয়াড়ের চেয়ে চ্যাম্পিয়ন দলের মূল স্থপতিকে পুরস্কৃত করার যুক্তিটাই বেশি জোরালো ছিল।
বয়স এবং পরিবর্তিত ভূমিকা
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬-এ মেসির ভূমিকা কিছুটা ভিন্ন ছিল। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি গোল করেছেন এবং করিয়েছেন, কিন্তু খেলার ধরন ছিল আরও বেশি প্লেমেকারের মতো। তিনি খেলা তৈরি করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্পেনের মাঝমাঠে রড্রি, পেদ্রি বা ইয়ামালের মতো তরুণ এবং উদ্যমী খেলোয়াড়রা ছিলেন। ফাইনালের মতো কঠিন ম্যাচে, যেখানে শারীরিক সক্ষমতা এবং দৌড়ের পরিমাণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে স্পেনের তরুণ তুর্কিদের দাপট বেশি ছিল। মেসি তার জাদুকরী মুহূর্তগুলো তৈরি করলেও, পুরো ১২০ মিনিট জুড়ে রড্রির মতো মাঝমাঠ শাসন করার কাজটি তার জন্য কঠিন ছিল, যা নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে থাকতে পারে।










