১. গবেষণা না করে গুজবে কান দেওয়া
নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো বন্ধু, পরিবার বা সোশ্যাল মিডিয়ার টিপস শুনে বিনিয়োগ করা। কোনো কোম্পানির ব্যবসা, তার আর্থিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাপনার দক্ষতা না জেনেই শেয়ার
কেনা অনেকটা চোখ বন্ধ করে তীর ছোড়ার মতো। একটি শেয়ারের দাম বাড়ছে মানেই সেটি ভালো বিনিয়োগ, এমন ধারণা ভুল। এর পেছনের কারণ জানা জরুরি। হয়তো সেটি কোনো সাময়িক হাইপের কারণে বাড়ছে এবং কিছুদিন পরেই দাম পড়ে যেতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল অ্যানালিসিস, যেমন—আয়ের বৃদ্ধি, ঋণের পরিমাণ এবং খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
২. আবেগের বশে কেনা-বেচা করা
শেয়ার বাজারের একটি সাধারণ নিয়ম হলো—যখন অন্যরা লোভে কেনে, তখন সতর্ক থাকুন এবং যখন অন্যরা ভয়ে বিক্রি করে, তখন সুযোগ খুঁজুন। কিন্তু নতুনরা প্রায়ই এর উল্টোটা করেন। বাজার সামান্য বাড়লে লোভে পড়ে অতিরিক্ত দামে শেয়ার কেনেন এবং বাজার পড়লে আতঙ্কিত হয়ে কম দামে বিক্রি করে লোকসান করেন। এই ধরনের আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য ক্ষতিকর। বাজারের ছোটখাটো উত্থান-পতনে বিচলিত না হয়ে ধৈর্য ধরে নিজের লক্ষ্যের ওপর স্থির থাকা উচিত। মনে রাখতে হবে, বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, রাতারাতি ধনী হওয়ার কোনো স্কিম নয়।
৩. পোর্টফোলিও ডাইভারসিফাই না করা
অনেক নতুন বিনিয়োগকারী তাদের সমস্ত পুঁজি একটি বা দুটি শেয়ারের মধ্যেই বিনিয়োগ করে ফেলেন। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। যদি কোনো কারণে ওই নির্দিষ্ট কোম্পানি বা সেক্টর খারাপ ফল করে, তাহলে আপনার সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এর থেকে বাঁচতে পোর্টফোলিও ডাইভারসিফিকেশন বা বৈচিত্র্য আনা জরুরি। এর অর্থ হলো আপনার বিনিয়োগকে বিভিন্ন সেক্টরের (যেমন—ব্যাংকিং, আইটি, এফএমসিজি, ফার্মা) এবং বিভিন্ন আকারের কোম্পানিতে ভাগ করে দেওয়া। এর ফলে একটি সেক্টর খারাপ করলেও অন্য সেক্টরের ভালো পারফরম্যান্স আপনার পোর্টফোলিওকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
৪. স্বল্পমেয়াদী লাভের পেছনে ছোটা
অনেকেই শেয়ার বাজারকে দ্রুত অর্থ উপার্জনের একটি উপায় হিসেবে দেখেন এবং ট্রেডারের মতো আচরণ শুরু করেন। তারা চেষ্টা করেন বাজারের সর্বনিম্ন দামে কিনে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করতে, যা 'টাইমিং দ্য মার্কেট' নামে পরিচিত। কিন্তু সত্যিটা হলো, পেশাদার বিনিয়োগকারীদের পক্ষেও ধারাবাহিকভাবে এটা করা প্রায় অসম্ভব। স্বল্পমেয়াদী লাভের আশায় ঘন ঘন শেয়ার কেনা-বেচা করলে ট্রানজ্যাকশন খরচ বেড়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী লাভের সুযোগ হাতছাড়া হয়। সফল বিনিয়োগের মূলমন্ত্র হলো সময় দেওয়া। ভালো কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হারে রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
৫. বড় বিনিয়োগকারীদের অন্ধভাবে অনুসরণ করা
একজন সফল বিনিয়োগকারী একটি নির্দিষ্ট শেয়ার কিনেছেন শুনেই সেই শেয়ারটি কেনা একটি সাধারণ ভুল। মনে রাখতে হবে, আপনি জানেন না তিনি কোন দামে বা কীসের ভিত্তিতে শেয়ারটি কিনেছেন। হয়তো তিনি অনেক কম দামে কিনেছিলেন এবং বর্তমান দামে কেনা আপনার জন্য লাভজনক নাও হতে পারে। তাছাড়া, বড় বিনিয়োগকারীদের সম্পূর্ণ পোর্টফোলিও কখনোই প্রকাশ্যে আসে না। তারা তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য অন্যান্য অনেক শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকতে পারেন, যা আপনার অজানা। তাই অন্যের স্ট্র্যাটেজি নকল না করে, নিজের গবেষণা এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন।










