হার্ট অ্যাটাক কখন সন্দেহ করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সাধারণত বুকের মাঝখানে বা বাম দিকে অনুভূত হয়। [6] এই ব্যথাকে প্রায়শই বুকে প্রচণ্ড চাপ, ভার বা মোচড় দেওয়ার মতো অনুভূতি হিসাবে বর্ণনা করা হয়। [3, 14] ব্যথাটি প্রায়শই চোয়াল, ঘাড়,
পিঠ, কাঁধ বা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে। [2, 6] এর সাথে শ্বাসকষ্ট, প্রচুর ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তিবোধের মতো লক্ষণও দেখা যায়। [2, 14] এই ধরনের ব্যথা বিশ্রাম নিলেও সহজে কমে না এবং কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হতে পারে। [8, 15] এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
হজমের সমস্যা: ব্যথার এক সাধারণ কারণ
অনেক সময় বুকে ব্যথার কারণ হয় হজমের সমস্যা, যেমন - গ্যাস, অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স (GERD)। [4, 8] অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ক্ষেত্রে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে বুকে জ্বালাপোড়া এবং ব্যথার সৃষ্টি করে। [3, 6] এই ব্যথাকে অনেকেই হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা বলে ভুল করেন। [4] সাধারণত, এই ধরনের ব্যথা খাবার খাওয়ার পরে বাড়ে এবং শুয়ে থাকলে আরও খারাপ হতে পারে। [8, 14] এর সাথে প্রায়শই মুখে টক স্বাদ, ঢেকুর ওঠা বা পেট ফাঁপার মতো লক্ষণ থাকে। [14] অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধে এই ব্যথা সাধারণত কমে যায়। [8, 15]
পেশি বা হাড়ের ব্যথা নয় তো?
বুকের পেশিতে টান লাগা বা পাঁজরের তরুণাস্থিতে প্রদাহ (Costochondritis) হলেও বুকে ব্যথা হতে পারে। [8, 16] ভারী কিছু তোলা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, জোরে কাশি বা হঠাৎ ভুল ভঙ্গিমার কারণে বুকের পেশিতে আঘাত লাগতে পারে। [16, 19] এই ধরনের ব্যথা সাধারণত ধারালো হয় এবং নির্দিষ্ট একটি জায়গায় অনুভূত হয়। [16] নড়াচড়া করলে, গভীর শ্বাস নিলে বা ওই জায়গায় চাপ দিলে ব্যথা বেড়ে যায়। [8] পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং কখনও কখনও ব্যথানাশক ওষুধে এই সমস্যা সেরে যায়। [8, 16]
ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যাও ফেলে দেয় ধন্দে
কিছু ফুসফুস সংক্রান্ত সমস্যাও বুকে ব্যথার কারণ হতে পারে। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস বা প্লুরিসি (ফুসফুসের আবরণের প্রদাহ) হলে বুকে ব্যথা হতে পারে, যা শ্বাস-প্রশ্বাস বা কাশির সাথে বাড়ে। [2, 3, 5] পালমোনারি এমবোলিজম (ফুসফুসের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা) একটি গুরুতর অবস্থা যেখানে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট হয়। [4, 7] এই ধরনের ব্যথার সাথে প্রায়ই জ্বর বা কাশির মতো অন্যান্য লক্ষণও থাকে। [8]
মানসিক চাপ এবং প্যানিক অ্যাটাক
তীব্র মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা প্যানিক অ্যাটাকের কারণেও বুকে তীব্র ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। [4, 10] প্যানিক অ্যাটাকের সময় হার্ট অ্যাটাকের মতো করেই বুকে ব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, কাঁপুনি এবং মাথা ঘোরার মতো অনুভূতি হয়। [17, 22] এই অনুভূতিগুলো খুব তীব্র হতে পারে এবং মনে হতে পারে যে মারাত্মক কিছু ঘটছে। [21] প্যানিক অ্যাটাকের ব্যথা হঠাৎ করেই আসে এবং সাধারণত ১০-২০ মিনিটের মধ্যে কমে যায়। [18, 22] যদিও এটি শারীরিক দিক থেকে ততটা বিপজ্জনক নয়, তবে বারবার হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।













